নয়াদিল্লি: বিহারের দীর্ঘদিনের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar)আজ শুক্রবার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন। নয়াদিল্লির সংসদ ভবনে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণ তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। সংক্ষিপ্ত এই অনুষ্ঠানে বিহারের দুই উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা ও সম্রাট চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এই শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে বিহার রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের দরজা খুলে গেল।
নীতীশ কুমার গত মার্চ মাসে রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি বিহার বিধান পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। আজকের শপথের পর তাঁর মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের পথও প্রশস্ত হয়েছে। সংবিধান অনুসারে রাজ্যসভার সদস্য হয়েও কেউ ছয় মাস পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে পারেন, কিন্তু জেডিইউ সূত্র বলছে, নীতীশ খুব শিগগিরই পদত্যাগ করে নতুন সরকার গঠনের পথ প্রশস্ত করবেন।
ফলে বিজেপির নেতৃত্বে বিহারে প্রথমবারের মতো একজন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।৭৫ বছর বয়সী নীতীশ কুমার বিহারের রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০০৫ সাল থেকে তিনি বারবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন রেকর্ড দশমবারের মতো সাম্প্রতিক নির্বাচনের পরও। জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর সুপ্রিমো হিসেবে তিনি ‘সুশাসন বাবু’ নামে পরিচিত। রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে তাঁর অবদান অনেকেই স্বীকার করেন।
কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান বারবার বদলেছে এনডিএ থেকে মহাগঠবন্ধন, আবার এনডিএ-তে ফিরে আসা। এই ‘সিদ্ধান্তের জন্য তিনি সমালোচিতও হয়েছেন।আজকের শপথ অনুষ্ঠানে জেডিইউ এবং এনডিএ-র অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে নীতীশ কুমার সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা না বললেও, তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন যে, পাটনায় ফিরে এসে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। তারপর এনডিএ-র মধ্যে আলোচনা করে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঠিক করা হবে।
বিজেপি বিধায়কদের মধ্যে থেকেই সম্ভবত নতুন মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলে জল্পনা চলছে।বিহারের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ বিপুল জয় পেয়েছে। বিজেপি সবচেয়ে বড় দল হয়েছে, তারপর জেডিইউ। এই জয়ের পরও নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্যসভায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনেককে অবাক করেছেন। অনেকে মনে করছেন, এটি তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক নতুন অধ্যায়।
জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইচ্ছা থেকেই হয়তো তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।রাজ্যসভায় নীতীশ কুমারের উপস্থিতি বিহারের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে বলে জেডিইউ নেতারা দাবি করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আরও ভালো সমন্বয় গড়ে তোলা, বিহারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ত্বরান্বিত করা এসবই তাঁর নতুন দায়িত্বের অংশ হবে। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, নীতীশের এই সিদ্ধান্ত বিহারের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।



















