ইসলামাবাদ: যুদ্ধবিরতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে পাকিস্তান (Pakistan)। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার আয়োজক হিসেবে ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়ায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অর্থাৎ ৯ ও ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে দুদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ছুটির মূল উদ্দেশ্য হল শহরের মানবিক কার্যকলাপ কমিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।পাকিস্তানের উপ-কমিশনারের অফিস থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ ক্যাপিটাল টেরিটরিতে এই দুদিন অপরিহার্য সেবা ছাড়া সব সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। পুলিশ ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে চেকপয়েন্ট বসিয়েছে। বিশেষ করে ‘রেড জোন’-এর চারপাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে, সন্দেহজনক গতিবিধি দেখলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল অনেক কমে গেছে। অনেক দোকানপাট বন্ধ, স্কুল-কলেজে ছুটি। শহরের কিছু অংশে শুধু সীমিত কার্যকলাপ দেখা যাচ্ছে।এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলতি যুদ্ধ। গত কয়েক সপ্তাহে যুদ্ধের আবহে আগুন জ্বলছে পশ্চিম এশিয়ায়। তেলের রুট বন্ধ হয়ে যাওয়া, অর্থনৈতিক সংকট এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্ব উদ্বিগ্ন।
এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। শনিবার থেকে ইসলামাবাদে এই দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। সেরেনা হোটেলসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে ডেলিগেশনের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। হোটেল খালি করে নিরাপত্তা কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই পদক্ষেপকে সাধারণত স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকে বলছেন, “যদি এই আলোচনার ফলে যুদ্ধ থেমে যায়, তাহলে দুদিনের ছুটি তো কিছুই না।”
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “শান্তি ফিরলে আমাদের অর্থনীতিও স্থিতিশীল হবে। নিরাপত্তার জন্য এই অসুবিধা মেনে নেওয়া যায়।” তবে কেউ কেউ দোকানপাট বন্ধ থাকায় আর্থিক ক্ষতির কথাও উল্লেখ করেছেন।পাকিস্তানের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। দেশটি ঐতিহাসিকভাবে মধ্যস্থতায় সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। এবারের আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, তেল রফতানি পুনরায় চালু, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রশমন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এসব বিষয়ে ফোকাস করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা অবশ্য বিস্তারিত তথ্য দিতে চাননি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণ দেখিয়ে।



















