কাঠমান্ডু: নেপাল সরকার ভারত থেকে আসা দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্যের উপর শুল্ক নীতিতে বড় ছাড় দিয়েছে। (Nepal)এখন থেকে ৫০০ নেপালি রুপি (প্রায় ৩১২ টাকা) পর্যন্ত পণ্য শুল্কমুক্তভাবে আনা যাবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী এবং ছোট ব্যবসায়ীরা বড় স্বস্তি পেয়েছেন।সম্প্রতি নেপাল সরকার কড়া শুল্ক নীতি চালু করায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়।
১০০ নেপালি রুপির উপরে সামান্য পণ্য আনলেও শুল্ক দিতে হতো, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বড় অসুবিধা তৈরি করেছিল। চিনি, চা, লবণ, সাবান, তেল, বিস্কুটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সীমান্তে দীর্ঘ লাইন পড়ত। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন। এই বিক্ষোভের চাপে অবশেষে সরকারকে পিছু হটতে হয়েছে।নতুন নিয়ম অনুসারে, ৫০০ নেপালি রুপি পর্যন্ত দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র শুল্কমুক্ত থাকবে।
আরও দেখুনঃ বঙ্গে আবগারি কেলেঙ্কারির অভিযোগে খুচরো বিক্রেতাদের দায়মুক্তির দাবি বিজন পাত্রের
এছাড়া নেপালি ছাত্র-ছাত্রীরা ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ট্যাবলেট ও ল্যাপটপও অতিরিক্ত ফি ছাড়াই আনতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে অনেকে বালেন শাহের আগ্রাসী নীতির উল্লেখযোগ্য পশ্চাদপসরণ বলে মনে করছেন। কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহ সম্প্রতি ভারতীয় পণ্যের উপর কড়া নজরদারি ও শুল্ক বৃদ্ধির পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু বাস্তবতা ও জনরোষের কাছে শেষ পর্যন্ত তাঁর নীতি অনেকটাই নরম হয়েছে।
সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ নেপাল-ভারত বাণিজ্য সম্পর্ককে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করবে। নেপালের অর্থনীতি অনেকাংশে ভারতের উপর নির্ভরশীল। কড়া শুল্কনীতির কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
এখন সরকার সেই উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।তবে অনেকে এই সিদ্ধান্তকে অস্থায়ী বলেও মনে করছেন। তাঁরা চান, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক। নেপালের ব্যবসায়ী মহল বলছে, অতিরিক্ত শুল্কের নীতি শেষ পর্যন্ত নেপালের নিজের অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছিল। দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়েছিল।




















