বিজেপি শাসিত রাজ্যে GST অফিসারদের দুর্নীতি চক্র ফাঁস

নাসিক: মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে আরেকবার প্রকাশ্যে এল গভীর শিকড় গেড়ে বসা দুর্নীতির ছবি (Nashik)। মাত্র কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB)র হাতে বমাল সমেত ধরা…

nashik-gst-officers-bribery-acb-trap-maharashtra

নাসিক: মহারাষ্ট্রের নাসিক শহরে আরেকবার প্রকাশ্যে এল গভীর শিকড় গেড়ে বসা দুর্নীতির ছবি (Nashik)। মাত্র কয়েকদিন আগে মহারাষ্ট্র অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো (ACB)র হাতে বমাল সমেত ধরা পড়লেন দু’জন সিনিয়র GST অফিসার এবং একজন মধ্যস্থতাকারী। অভিযোগ, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে GST তদন্ত মিটিয়ে দেওয়ার নামে তারা দাবি করেছিলেন ১.২৫ কোটি টাকা ঘুষ! আলোচনার পর অঙ্ক কমে ১ কোটিতে নেমে আসে, আর প্রথম কিস্তি হিসেবে ২০ লক্ষ টাকা নগদ নিতে গিয়েই ফাঁদে পড়েন তারা।

এই ঘটনা শুধু একটা কেলেঙ্কারি নয়, এটা দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে ট্যাক্স বিভাগের ভিতরে দুর্নীতি এখনও প্রবল।ঘটনার শুরু কয়েক সপ্তাহ আগে। নাসিকের দামোদর চক এলাকায় এক ব্যবসায়ীর অফিসে GST অফিসাররা রেইড চালান। তদন্তে কিছু অনিয়ম ধরা পড়ে। তারপরই শুরু হয় ঘুষের দরকষাকষি। ডেপুটি কমিশনার সোমনাথ দত্তু পেজ (৪৭) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার মছিন্দ্র বিঠ্ঠল দোন্ডে (৫৫) দু’জনেই নাসিক ডিভিশনের স্টেট ট্যাক্স (GST) অফিসে কর্মরত অভিযোগকারী ব্যবসায়ীর কাছে দাবি করেন ১.২৫ কোটি টাকা।

   

আরও দেখুনঃ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ, পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য

বলা হয়, এই টাকা দিলে তদন্ত মিটিয়ে দেওয়া হবে, কোনো কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ব্যবসায়ী প্রথমে চুপ করে থাকেন, কিন্তু পরে আর সহ্য করতে না পেরে মুম্বাইয়ের ACB-এর ওরলি অফিসে অভিযোগ দায়ের করেন।ACB তদন্ত শুরু করে। ৪ মার্চ পঞ্চ সাক্ষীদের সামনে যাচাই করে দেখা যায়, অফিসাররা সত্যিই ঘুষ চাইছেন। আলোচনায় অঙ্ক কমে ১ কোটিতে আসে, আর প্রথম কিস্তি ২০ লক্ষ টাকা নগদ চাওয়া হয়।

ব্যবসায়ী রাজি হন বলে ভান করে ACB-কে জানান। ৬ মার্চ পাথর্দি ফাটা এলাকার GST অফিসে ফাঁদ পাতা হয়। মধ্যস্থতাকারী অমিত হিরামণ যাদব (৩৬) অফিসারদের হয়ে ২০ লক্ষ টাকা নিতে আসেন। টাকা হাতে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ACB-এর টিম ঝাঁপিয়ে পড়ে। যাদবকে গ্রেফতার। পরে অফিসারদেরও গ্রেফতার করা হয়।তল্লাশিতে পেজের অফিস থেকে আরও ২ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তিনজনের বিরুদ্ধেই প্রিভেনশন অফ করাপশন অ্যাক্টে মামলা রুজু হয়েছে। আদালত অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে কয়েকদিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ACB জানিয়েছে, এই কেসে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে, তদন্ত চলছে।এই ঘটনা ব্যবসায়ী মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। অনেকে বলছেন, GST-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে এমন দুর্নীতি থাকলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা কোথায় যাবেন?

একদিকে ট্যাক্স আদায়ের চাপ, অন্যদিকে ঘুষের দাবি এটা যেন দ্বিমুখী চাপ। ব্যবসায়ীরা প্রায়ই অসহায় বোধ করেন। এই কেলেঙ্কারি আবারও প্রশ্ন তুলেছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কতটা কার্যকর? ACB-এর এই সফল অভিযানকে অনেকে প্রশংসা করছেন, কারণ এটা দেখায় যে অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।