নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে বড়সড় ‘সাপ্লাই চেন’ বা পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। সোমবার রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে এই উদ্বেগই প্রকাশ করলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তবে এই চরম পরিস্থিতির মাঝেও দেশের সাধারণ মানুষ এবং উপভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষাই সরকারের ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
সাপ্লাই চেন ও জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা
বিরোধীদের স্লোগানের মাঝেই বিদেশমন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং সমুদ্রপথে পরিবহণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভারতের অর্থনীতিতে এর কী প্রভাব পড়তে পারে, সেদিকে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি। শান্তি ফেরাতে কূটনীতি ও আলোচনার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানির স্থিতিশীলতার জন্য পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় থাকা অত্যন্ত জরুরি।
৬৭ হাজার ভারতীয়ের প্রত্যাবর্তন Jaishankar Middle East conflict warning
জয়শঙ্কর জানান, ওই অঞ্চলে বসবাসকারী ও কর্মরত ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়া থেকে প্রায় ৬৭ হাজার ভারতীয় নাগরিক নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন বলে এদিন সংসদকে জানিয়েছেন তিনি।
মানবিকতার খাতিরে ইরানি জাহাজকে আশ্রয়
বিদেশমন্ত্রী এদিন কেরালার কোচি বন্দরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস লাবন’ (IRIS Lavan)-কে নোঙর করার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ১৮৩ জন ক্রু সদস্যকে (যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই তরুণ ক্যাডেট) নিয়ে বিপাকে পড়েছিল জাহাজটি। ভূ-রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার বাইরে গিয়ে নেহাতই ‘মানবিকতার খাতিরে’ গত ৪ মার্চ এটিকে কোচিতে ভেড়ার অনুমতি দেয় ভারত।
এর পাশাপাশি, ৪ মার্চ ভারত মহাসাগরে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ইরানের অপর যুদ্ধজাহাজ ‘আইআরআইএস দেনা’ (IRIS Dena) ডুবে যাওয়ার ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে আখ্যা দেন তিনি। ওই ঘটনায় ৮০ জনের বেশি নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। বিপদের সংকেত পেয়ে ভারতও যে উদ্ধারকাজে নজরদারি বিমান এবং যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছিল, সে কথাও মনে করিয়ে দেন জয়শঙ্কর।
রাজ্যসভায় ক্ষুব্ধ বিরোধীদের ওয়াকআউট
এদিকে, এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিরোধী শিবির। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এক্স (X) হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বিদেশমন্ত্রী এমনভাবে স্বতঃপ্রণোদিত (Suo Motu) বিবৃতি দিয়েছেন, যেখানে পালটা কোনও প্রশ্ন করার বা স্পষ্টীকরণের সুযোগ ছিল না। বিরোধীদের আলোচনার দাবি খারিজ হয়ে যাওয়ায়, প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করে তারা।



















