৮ বছর ছেলে বলে লালন-পালন! সাধুর টাকা মেরে পালাল মহম্মদ হাসিম

উত্তর প্রদেশের মুজাফ্ফর নগরে একটি হৃদয়বিদারক এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা। (Muzaffarnagar)বিশ্বাসের অপব্যবহার করে কিভাবে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিষ্ণু…

muzaffarnagar-sadhu-fraud-case-mohammad-hasim-betrayal-news

উত্তর প্রদেশের মুজাফ্ফর নগরে একটি হৃদয়বিদারক এবং চাঞ্চল্যকর ঘটনা। (Muzaffarnagar)বিশ্বাসের অপব্যবহার করে কিভাবে একটি চক্র লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিষ্ণু দাস, যিনি নির্মোহী অখাড়ার সঙ্গে যুক্ত একজন সাধু। তিনি গত আট বছর ধরে মহম্মদ হাসিম নামের এক যুবককে নিজের ছেলের মতো লালন-পালন করেছেন। হাসিম আশ্রমে থেকে গো-সেবা করতেন, সাধুর সঙ্গে দিনরাত কাটাতেন।

বিষ্ণু দাস তাকে পুরোপুরি ভরসা করতেন, তার ওপর আস্থা রেখেছিলেন নিজের সবকিছু। কিন্তু সেই ভরসাকেই হাসিম এবং তার সঙ্গীরা কাজে লাগিয়ে এক বড়সড় প্রতারণার জাল বুনেছেন।ঘটনাটি শুরু হয় যখন বিষ্ণু দাস গো-শালার জন্য জমি কেনার পরিকল্পনা করেন। তিনি হাথরাস জেলার গ্রাম বঘনায় নিজের পৈতৃক জমি বিক্রি করে কিছু ভালো টাকা জমিয়েছিলেন। সেই টাকা দিয়ে গো-শালার সম্প্রসারণ করতে চেয়েছিলেন। হাসিম জানতে পেরে সুযোগ বুঝে এগিয়ে আসে।

   

আরও দেখুনঃ বিশ্ববাজার অশান্ত! দাম কমল সোনার

সে বলে, তার চেনা লোকজনের মাধ্যমে খুব ভালো দরে জমি পাওয়া যাবে, গো-শালা বানানোর জন্য পারফেক্ট জায়গা। বিষ্ণু দাস বিশ্বাস করে তাকে টাকা দিতে শুরু করেন। মোট ২৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাসিম এবং তার দলের হাতে তুলে দেন। হাসিম ফেক ডকুমেন্ট তৈরি করে, জালিয়াতি করে জমির কাগজপত্র দেখায়। কিন্তু যখন আসল জমি দেখানোর কথা আসে, তখন টালবাহানা শুরু হয়।

বিষ্ণু দাস যখন টাকা ফেরত চান, তখন হুমকি দেওয়া হয় বিরোধিতা করলে জানে মেরে ফেলা হবে।১৮ মার্চ ২০২৬-এ বিষ্ণু দাস ভোপা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ তদন্ত শুরু করে। অবাক করা বিষয় হল, মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরো দলটিকে ধরে ফেলা হয়েছে। ভোপা থানার পুলিশ টিমের তৎপরতায় হাসিমসহ সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছে হাসিম (পিতা মাঙ্গা, নিবাসী নয়া বস্তি, ভোকরাহেড়ি), প্রবীণ কুমার, দিলশাদ, সুখবিন্দর, ফৈজান, রবিশ এবং আব্দুল কাদির।

তাদের কাছ থেকে ২২ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার সরঞ্জাম এবং দুটি ফেক আধার কার্ডও বাজেয়াপ্ত করা হয়।এই ঘটনা শুধু টাকার লেনদেনের নয়, এটা বিশ্বাসের উপর আঘাত। একজন সাধু, যিনি গো-সেবায় জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাকে এভাবে ঠকানো হয়েছে এটা সমাজের জন্য লজ্জার।

হাসিম আট বছর ধরে আশ্রমে থেকে সাধুর সেবা করেছে, তার সঙ্গে খেয়েছে-দিয়েছে, কিন্তু শেষমেশ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এতে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে খেলা করা হয়েছে, গো-সেবার নামে লোভ দেখানো হয়েছে। পুলিশের দ্রুত অ্যাকশন প্রশংসনীয়। এসএসপি সঞ্জয় বর্মা নিজে প্রেস কনফারেন্স করে বিস্তারিত জানিয়েছেন যে, এই গিরোহ ধর্মীয় ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে ঠকিয়েছে।