ডিব্রুগড়: ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে অসমে। আর ঠিক সেই আবহে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের ‘আত্মা’ অর্থাৎ চা-শ্রমিকদের মন জয় করতে সরাসরি আসরে নামলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ সকালে অসমের ডিব্রুগড়ে একটি চা-বাগান পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে কর্মরত প্রমীলা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি, নিজের হাতে চা-পাতাও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিছকই কোনও সাধারণ ভ্রমণ নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত মেগা জনসংযোগ।
চা-পাতা তুললেন, তুললেন সেলফিও
এদিন সকালে ডিব্রুগড়ের ওই চা-বাগানে পৌঁছতেই প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন কর্মরত মহিলারা। তাঁদের আবদার হাসিমুখে মেটান মোদী, তোলেন সেলফিও। এই গোটা অভিজ্ঞতাকে ‘অত্যন্ত স্মরণীয়’ বলে বর্ণনা করে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু ছবিও শেয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
‘চা হলো অসমের আত্মা’
চা-শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে ইনস্টাগ্রাম পোস্টে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “চা হলো অসমের আত্মা। এখানকার চা বিশ্বজুড়ে নিজের আলাদা ছাপ ফেলেছে। আজ সকালে ডিব্রুগড়ে চা-বাগান পরিদর্শনের পাশাপাশি সেখানকার মহিলাদের সঙ্গে কথা বললাম। চা-পাতা তোলার ফাঁকে তাঁরা আমাকে নিজেদের সংস্কৃতির কথা শোনালেন, সেলফিও তুললেন।” শ্রমিকদের এই নিষ্ঠা অসমের সুনামকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভোটের অঙ্কে মাস্টারস্ট্রোক
অসমে বর্তমানে ক্ষমতায় রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সামনে এবার ক্ষমতা ধরে রাখার বড় চ্যালেঞ্জ। এই লড়াইয়ে তাঁদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় কংগ্রেস। আগামী ৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসমের রাজনীতিতে চা-শ্রমিকদের ভোটব্যাঙ্ক বরাবরই বড় ফ্যাক্টর এবং নির্ণায়ক শক্তি। তাই নির্বাচনের ঠিক মুখে ডিব্রুগড়ের চা-বাগানে প্রধানমন্ত্রীর এই জনসংযোগ আসলে ভোটবাক্সে ডিভিডেন্ড তোলারই এক বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক।




















