ভারতের তেলের জন্য স্বস্তি? হরমুজে শুধু আমেরিকা-ইজরায়েল-ইউরোপ নিষিদ্ধ

iran strait of hormuz blockade

নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই এক চরম পদক্ষেপ নিল ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) আমেরিকা, ইজরায়েল, ইউরোপ এবং তাদের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলির জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

গত শনিবার থেকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই বাণিজ্যিক জলপথে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। এবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করল তেহরান।

   

কী হুঁশিয়ারি দিল ইরান?

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-তে এই কড়া ঘোষণা করা হয়। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে:

ওই জলপথে আমেরিকা, ইজরায়েল, ইউরোপ বা তাদের সমর্থক কোনও দেশের জাহাজ দেখা গেলে তার ওপর “নিশ্চিতভাবে হামলা চালানো হবে”।

আন্তর্জাতিক আইন ও রেজোলিউশন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ অধিকার ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রয়েছে।

কেবলমাত্র চিনা জাহাজে ছাড় iran strait of hormuz blockade

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত মঙ্গলবার ইরান জানিয়েছিল যে তারা এই প্রণালী ব্যবহারের জন্য শুধুমাত্র চিনা পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে অনুমতি দেবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সাম্প্রতিক সংঘাতে বেজিংয়ের ইতিবাচক অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এবং বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবেই এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা

পারস্য উপসাগর থেকে বেরনোর একমাত্র সমুদ্রপথ হল এই হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট সমুদ্রবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) এই প্রণালী হয়ে যাতায়াত করে। এই রুট বন্ধ হওয়ার জেরে ইতিমধ্যেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। এটি দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরের (বিশ্বের দশম বৃহত্তম কন্টেইনার টার্মিনাল) একমাত্র পথ। ফলে এই অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যও ব্যাপক ক্ষতির মুখে।

ইতিহাসে প্রথমবার সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ

ইতিহাস বলছে, এর আগে কখনও বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এমনকী ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চলা রক্তক্ষয়ী ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তেলের ট্যাঙ্কারে বারবার হামলা হওয়া সত্ত্বেও এই পথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত ছিল।

বর্তমানে ‘মেরিন ট্রাফিক’ ওয়েবসাইটের লাইভ ট্র্যাকিংয়ে দেখা যাচ্ছে, কুয়েত, দুবাই এবং হরমুজ চ্যানেলের ঠিক বাইরে শয়ে শয়ে মালবাহী জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কার থমকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইরানের নিজস্ব বাণিজ্যিক জাহাজগুলিও প্রণালীর পূর্ব দিকে বন্দর আব্বাসে নোঙর করে রয়েছে।