নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। ইরান, আমেরিকা এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলতে থাকা (Iran Ambassador)উত্তেজনার আবহে এবার বড় মন্তব্য করলেন ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ ফাতেহালি। তাঁর দাবি, যুদ্ধের সূচনা ইরান করেনি, বরং অন্য পক্ষই প্রথমে আক্রমণ চালিয়েছে। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং কবে শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন ইরানের হাতেই রয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরান কখনও যুদ্ধ চায় না এবং সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষেই থেকেছে। কিন্তু যখন তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ করা হয়, তখন দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না। ড. ফাতেহালির কথায়, “আমরা কখনো যুদ্ধ চাইনি। আমরা বহুবার বলেছি, এই যুদ্ধের শুরু আমরা করিনি। কিন্তু যুদ্ধ কতদিন চলবে এবং কখন শেষ হবে, সেই সিদ্ধান্ত এখন আমাদের হাতেই রয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
আরও দেখুন: মাঝরাতে রথে ভাঙচুর! কোচবিহারে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ ঘিরে ধুন্ধুমার
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান কখনোই প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর আক্রমণ চালায় না। বরং এই অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করে। রাষ্ট্রদূতের মতে, কিছু প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকেই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সেই কারণেই ইরান কেবলমাত্র ওই সামরিক ঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত করেছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিইনি। আমরা আগেই সব প্রতিবেশী দেশকে জানিয়েছিলাম যে আমরা শুধুমাত্র মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করব। কারণ সেই ঘাঁটিগুলো থেকেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।”
এছাড়াও তিনি গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, মার্কিন হামলায় সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, একটি হামলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রাণ হারিয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ওই ঘাঁটিগুলো থেকে এমন হামলা হয়েছে যেখানে আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৬০ জন ছোট ছাত্রছাত্রী আক্রান্ত হয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি।”
এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই বক্তব্য স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত এবং সংঘাত দ্রুত থামার সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। তবে একই সঙ্গে ইরানের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে তারা যুদ্ধ চায় না এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হোক সেটাও তারা চায় না। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি অন্য পক্ষ আক্রমণ বন্ধ করে এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথে ফিরে আসে, তাহলে সংঘাত থামানো সম্ভব।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপই একমাত্র পথ যা এই উত্তেজনা কমাতে পারে। কারণ যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে। এদিকে ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের এই মন্তব্য এমন এক সময় সামনে এল, যখন গোটা বিশ্বই মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাপ্রবাহের দিকে গভীরভাবে নজর রাখছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয়, তা এখনই বলা কঠিন। তবে ইরানের এই বার্তা স্পষ্ট যুদ্ধের শেষ অধ্যায় কবে লেখা হবে, সেই সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নিতে চায়।



















