নয়াদিল্লি, ১৫ মার্চঃ ভারতের আসন্ন তেজস মার্ক-২ যুদ্ধবিমান (Indigenous Fighter jet), যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়াম ওয়েট ফাইটার (MWF) বলা হয়, এটি কেবল তেজস পরিবারের একটি ছোটখাটো আপগ্রেড নয়। এটি মূলত একটি যুদ্ধবিমান যা নকশা এবং পরিচালনা উভয় ক্ষেত্রেই একটি নতুন পদ্ধতির সাথে ডিজাইন করা হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যে এটি তৈরি করা হচ্ছে।
এই বিমানের প্রথম উড্ডয়ন ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে। যদিও এর চূড়ান্ত বিমানের জীবনকাল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি, আধুনিক ৪.৫ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলি সাধারণত ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ ঘন্টা উড্ডয়ন ঘন্টার লক্ষ্য পরিষেবা জীবন নিয়ে ডিজাইন করা হয়। সূত্রের খবর, তেজস মার্ক-২ এর দীর্ঘ পরিষেবা জীবনের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে।
তেজসের দৈর্ঘ্য এক মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে
তেজস Mk2 এর ফিউজলেজ লম্বা। এটি প্রায় ১৪.৬ মিটার লম্বা হবে, যেখানে Mk1A এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩.২ থেকে ১৩.৯ মিটার। এই অতিরিক্ত দৈর্ঘ্যের সুবিধা হলো এতে আরও জ্বালানি বহন করার ক্ষমতা থাকবে, আধুনিক এভিওনিক্স সিস্টেম এবং অস্ত্র থাকবে এবং বিমানের ভারসাম্যও ভাল থাকবে।
কম্পোজিট প্রযুক্তির ব্যবহার
সামনে লাগানো ক্লোজ-কাপল্ড ক্যানার্ড (ছোট সামনের ডানা) বিমানটিকে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণযোগ্য করে তোলে। এটি বিমানটিকে আক্রমণের উচ্চ কোণে আরও ভাল পারফর্ম করতে সাহায্য করে এবং কঠিন কৌশলের সময় টানাটানি কমায়। এটি কোনও অতিরিক্ত উপাদান নয়, বরং বিমানের মৌলিক নকশার একটি অংশ। এটি উন্নত কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে, যা ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়িয়ে শক্তি বৃদ্ধি করে। প্রোগ্রামটির সাথে পরিচিত সূত্র অনুসারে, তেজস মার্ক-২ এর হাল পূর্ববর্তী রূপগুলির তুলনায় আরও উন্নত কম্পোজিট নির্মাণ কৌশল ব্যবহার করে। এই উপাদানটি কেবল ওজন কমাতেই ব্যবহৃত হয় না, বরং এটি বিমানের ক্লান্তি প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
প্রোটোটাইপ উৎক্ষেপণ ঘনিয়ে আসছে
এর প্রোটোটাইপ উৎক্ষেপণ যতই ঘনিয়ে আসছে, তেজস এমকে২ ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠতে চলেছে। মিরাজ এবং জাগুয়ারের মতো পুরনো বিমান অবসর গ্রহণের পর মাঝারি ওজনের যুদ্ধবিমানের ঘাটতি পূরণ করতে পারে এটি। তাছাড়া, সম্পূর্ণরূপে দেশীয় হওয়ায়, ভারতের ভবিষ্যতের চাহিদা অনুযায়ী এটি আরও উন্নত করা যেতে পারে।
লম্বা এবং চটপটে যুদ্ধবিমান
সামগ্রিকভাবে, তেজস এমকে২ এর লম্বা দেহ, কৌশলগত দক্ষতা এবং শক্তিশালী কম্পোজিট কাঠামো এটিকে একটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিমানে পরিণত করে, কঠোর যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও ভালো পারফর্ম করে এবং ভবিষ্যতে ভারতীয় বিমান বাহিনীর সাথে বিকশিত হতে থাকে।



















