ইহুদি গণহত্যার মূল চক্রীকে কবরে পাঠিয়ে জয়ের হাসি ইসরায়েলের

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক আকাশে আবারও ঝড় উঠেছে। (Israel airstrike)ইসরায়েলী প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) তেহরানে একটি নির্ভুল বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিহত করেছে। নিহতদের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
israel-airstrike-kills-iranian-intelligence-officials-tehran

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক আকাশে আবারও ঝড় উঠেছে। (Israel airstrike)ইসরায়েলী প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) তেহরানে একটি নির্ভুল বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিহত করেছে। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন আবদোল্লাহ জালালি নাসাব, যিনি ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের (KACH) গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাক্টিং প্রধান ছিলেন। তার সঙ্গে নিহত হয়েছেন আমির শরিয়াত।

এই ঘটনা ঘটেছে মার্চ ১৪ তারিখে, এবং IDF এটি নিশ্চিত করেছে। এই হামলা ইসরায়েল-ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শত্রুতাকে আরও গভীর করেছে, এবং অনেকে এটাকে ইসরায়েলের জয়ের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।জালালি নাসাবকে ইরানের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে মনে করা হত। তিনি মাত্র দু’সপ্তাহ আগে এই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, যখন তার পূর্বসূরী সালেহ আসাদি ফেব্রুয়ারি ২৮-এ একটি ইসরায়েলী হামলায় নিহত হন।

   

আরও দেখুনঃ রবির বারবেলায় বাংলায় ভোটের বাদ্যি বাজাবে কমিশন

আসাদির মৃত্যুর পর জালালি নাসাব এবং শরিয়াতকে অস্থায়ীভাবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইসরায়েলী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দুজন ইরানের গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি ছিলেন এবং ইরানী নেতৃত্বের খুব কাছের লোক। খাতাম আল-আনবিয়া হলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ইউনিফাইড কমান্ড হেডকোয়ার্টার, যা দেশের সামরিক কার্যকলাপের মূল নিয়ন্ত্রক।

এই হামলা তেহরানের ভিতরে চালানো হয়েছে, যা ইসরায়েলের গোয়েন্দা ক্ষমতা এবং সামরিক দক্ষতার প্রমাণ। IDF-এর একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা দুই সিনিয়র গোয়েন্দা কর্মকর্তা আবদোল্লাহ জালালি নাসাব এবং আমির শরিয়াতকে নিহত করেছি। তারা খাতাম আল-আনবিয়া ইমার্জেন্সি কমান্ডের গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন এবং ইরানী নেতৃত্বের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন।”

এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইসরায়েল-ইরানের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত। ২০২৩ সালের অক্টোবর ৭-এ হামাসের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত হয়, যাকে ইহুদি গণহত্যা বলে অভিহিত করা হয়। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই হামলার পিছনে ইরানের হাত ছিল, এবং জালালি নাসাবকে তার অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী বলে মনে করা হয়।

যদিও এই অভিযোগের সরাসরি প্রমাণ সর্বজনীন নয়, কিন্তু কিছু সূত্রে বলা হচ্ছে যে তিনি হামাস এবং অন্যান্য প্রক্সি গ্রুপের সাথে যুক্ত ছিলেন। ইসরায়েলের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি অংশ, যা ইরানের প্রক্সি যুদ্ধকে দুর্বল করবে। ইরানী সেনাবাহিনী এই মৃত্যু নিশ্চিত করে বলেছে, “ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদোল্লাহ জালালি নাসাব দেশ রক্ষায় শহীদ হয়েছেন।” এটি ইরানের পক্ষ থেকে প্রথম স্বীকৃতি।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.