Indian Navy: ভারতীয় নৌবাহিনী ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০টিরও বেশি জাহাজের একটি নৌবহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। এর সর্বশেষ প্রমাণ হলো দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি যুদ্ধজাহাজকে নৌবহরে অন্তর্ভুক্ত করা। বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রায় ১৫০টি জাহাজ ও সাবমেরিন পরিচালনা করছে এবং ভারতের বিভিন্ন শিপইয়ার্ডে ৫০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণের কাজ চলছে। ভারতীয় নৌবাহিনী একটি ‘ব্লু-ওয়াটার’ নৌবাহিনী। এর অর্থ হলো, ভারতীয় নৌবাহিনী কেবল নিজেদের উপকূলই রক্ষা করতে সক্ষম নয়, বরং গভীর ও উন্মুক্ত সমুদ্রেও নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম। চিন ও পাকিস্তানকে ভারতের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে, আসুন চিন ও পাকিস্তানের নৌ-ক্ষমতা বা সামর্থ্য পর্যালোচনা করা যাক।
চিনের নৌ-শক্তি
চিনের রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী। চিনা নৌবাহিনীতে ৮০০টিরও বেশি নৌ-জাহাজ (ডেস্ট্রয়ার, ফ্রিগেট ও করভেট), তিনটি বিমানবাহী রণতরী এবং পারমাণবিক ও ডিজেল-ইলেকট্রিক চালিত সাবমেরিন রয়েছে। ইতিমধ্যেই বিশাল নৌবহর থাকা সত্ত্বেও চিন বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স ২০২৬’ অনুযায়ী, চিনের কাছে বিভিন্ন আকারের প্রায় ৮৪১টি যুদ্ধজাহাজ ও নৌ-যান রয়েছে—যা সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—উভয় দেশকেই ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে চিন তিনটি বিমানবাহী রণতরী (লিয়াওনিং, শানডং এবং অত্যাধুনিক ফুজিয়ান) পরিচালনা করছে এবং চিনা নৌবাহিনীর বহরে ৬১ থেকে ৬৮টি সাবমেরিন রয়েছে।
- চিনা নৌবাহিনী ৫৩টি ডেস্ট্রয়ার এবং ৪৬টি ফ্রিগেট নিয়ে গঠিত
- চিনা নৌবাহিনীতে আড়াই লক্ষেরও বেশি সক্রিয় নাবিক ও সামরিক কর্মী কর্মরত রয়েছেন।
- এছাড়া কম্বোডিয়ার রিয়াম নৌ-ঘাঁটি এবং জিবুতিতেও চিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে।
- চিনের কাছে ৬১ থেকে ৬৮টি সাবমেরিনের একটি বিশাল বহর রয়েছে।
- বর্তমানে চিনের তিনটি বিমানবাহী রণতরীও সক্রিয় সেবায় নিয়োজিত রয়েছে।
পাকিস্তানের নৌ-শক্তি
পাকিস্তানের নৌবাহিনী তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এটি মূলত উপকূলীয় প্রতিরক্ষার জন্য গঠিত; তাই একে ‘গ্রিন-ওয়াটার নেভি’ (উপকূলীয় নৌবাহিনী) হিসেবে গণ্য করা হয়। বাজেট-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, তুরস্ক ও চীনের সহায়তায় পাকিস্তান তার নৌবাহিনীকে আধুনিকায়ন করেছে। গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার এবং ডব্লিউডিএমএমডব্লিউ (WDMMW)-এর তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের নৌবহরে বিভিন্ন আকারের মোট প্রায় ১২১ থেকে ১৪৮টি নৌযান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৬টি হলো সম্মুখসারির প্রধান যুদ্ধজাহাজ। বর্তমানে পাকিস্তান ৮ থেকে ৯টি সক্রিয় সাবমেরিন পরিচালনা করছে, যার মধ্যে চিন থেকে সংগৃহীত ‘হ্যাংগোর’ (Hangor) শ্রেণির সাবমেরিনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পাকিস্তান নৌবাহিনীর কাছে বিমানবাহী রণতরী বা গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের মতো বড় আকারের কোনো যুদ্ধজাহাজ নেই।





