নয়াদিল্লি: দূষণমুক্ত রেলযাত্রার পথে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল ভারত। শুক্রবার ১৭ জুলাই হরিয়ানার জিন্দ স্টেশন থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ডিজেল বা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস চালিত এই ট্রেন ভারতের পরিবহণ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছে রেলমন্ত্রক। (hydrogen train launched today)
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি
হাইড্রোজেন ট্রেনের মূল চালিকাশক্তি হল বাতাসের হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বিদ্যুৎই ট্রেনটিকে সচল রাখে। ফলে নির্গত হয় কেবল জলীয় বাষ্প। কার্বন ডাইঅক্সাইড বা ক্ষতিকারক ধোঁয়ার লেশমাত্র নেই। ডিজেল ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেন ৬০ শতাংশ কম শব্দ করে। রেলের এই ‘হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’ উদ্যোগের আওতায় মোট ৩৫টি এমন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে কেন্দ্রের।
ট্রেনের বৈশিষ্ট্য ও রুট
হরিয়ানার জিন্দ এবং সোনিপাতের মধ্যে ৮৯ কিমি দীর্ঘ রুটে চলবে এই ট্রেন। জিন্দ থেকে সোনিপাত পর্যন্ত মোট ১২টি স্টেশনে থামবে ট্রেনটি। প্রতিদিন ৩৫৬ কিমি পথ অতিক্রম করবে এই হাইড্রোজেন ট্রেন। এর স্বাভাবিক গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৫ কিমি হলেও, পরীক্ষামূলক পর্যায়ে এটি ১২০ কিমি গতিও ছুঁয়েছে। ১০টি কোচ বিশিষ্ট এই ট্রেনের যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ২,৬০০ জন এবং এতে ৬৮২টি আসন রয়েছে। একবার রিফুয়েলিং করলে ট্রেনটি প্রায় ২৫০ কিমি পথ পাড়ি দিতে সক্ষম।
সাশ্রয়ী ও নিরাপদ
সাধারণ মানুষের পকেটের কথা ভেবেই এই ট্রেনের ভাড়া রাখা হয়েছে অত্যন্ত কম, মাত্র ৫ থেকে ২৫ টাকা। নিরাপত্তার খাতিরে এতে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফায়ার ডিটেক্টর ও অটো-শাটডাউন সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক বহুস্তরীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জিন্দ স্টেশনে নির্মিত হয়েছে বিশেষ হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং প্ল্যান্ট, যার খরচ ও পরিকাঠামো মিলিয়ে পুরো পাইলট প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১২ কোটি টাকা।
বিদ্যুতায়িত নয় এমন দুর্গম রুটে ডিজেল ট্রেনের বিকল্প হিসেবে হাইড্রোজেন ট্রেন ভারতীয় রেলের জন্য এক বড় সম্পদ হয়ে উঠবে বলেই আশাবাদী বিশেষজ্ঞেরা। আমদানিনির্ভর তেল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে ভারতের জ্বালানি সাশ্রয়ে এটি এক বড় পদক্ষেপ।





