নয়াদিল্লি: ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথ খুলে গেল (Polymer Notes)। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পলিমার সাবস্ট্রেট শিট সরবরাহের জন্য গ্লোবাল টেন্ডার আহ্বান করেছে। এই পদক্ষেপকে অনেকেই ভারতে প্লাস্টিক বা পলিমার নোট চালু করার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
যদি প্রক্রিয়াটি সফল হয়, তাহলে কাগজের নোটের যুগ শেষ হয়ে নতুন এক অধ্যায় শুরু হবে।দীর্ঘদিন ধরেই আরবিআই পলিমার নোটের সম্ভাব্যতা নিয়ে চর্চা করছিল। এবার সেই চর্চা বাস্তবে রূপ নিতে চলেছে। পলিমার সাবস্ট্রেট মানে হল বিশেষ ধরনের প্লাস্টিকের মতো উপাদান, যার ওপর নোট ছাপানো হয়। বর্তমানে ভারতে যে নোট ব্যবহৃত হয়, তা মূলত তুলা-কাগজের মিশ্রণে তৈরি।
আরও দেখুনঃ মৃত্যুশয্যায় সোনম ওয়াংচুক, অঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কায় চিকিৎসকেরা
এই নোটগুলো সহজেই ছিঁড়ে যায়, নোংরা হয়, এমনকি জলে ভিজে অকেজো হয়ে পড়ে। কিন্তু পলিমার নোট হবে একদম আলাদা। এগুলো অনেক বেশি টেকসই, ধোয়া যায়, ভাঁজ করা যায় এবং দীর্ঘদিন টিকে থাকে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিমার নোটের আয়ু কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ব্রিটেন সহ বিশ্বের অনেক দেশ ইতিমধ্যে পলিমার নোট চালু করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় তো প্রায় তিন দশক আগে থেকেই এই নোট চালু। ফলে তাদের নোটের গড় আয়ু কাগজের নোটের চেয়ে তিন থেকে চার গুণ বেশি। ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশে এই পরিবর্তন অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কম ঘনঘন নোট ছাপাতে হবে না , যার ফলে সরকারের খরচ অনেক কমবে।সবচেয়ে বড়ো সুবিধা হলো নিরাপত্তা।
আরও দেখুনঃ ISI-মনমোহন সরকারের ফিক্সড ম্যাচ ২৬/১১! স্বীকারোক্তি কংগ্রেস সরকারের আমলার
পলিমার নোটে স্বচ্ছ জানালা (ট্রান্সপারেন্ট উইন্ডো), হলোগ্রাম, মাইক্রোটেক্সট এবং আরও উন্নত সিকিউরিটি ফিচার যোগ করা যায়। জাল নোট তৈরি করা তাই অনেক কঠিন হয়ে পড়বে। ভারতে জালিয়াতির সমস্যা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোটে জালিয়াতি বেশি হয়। পলিমার নোট এই সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারে।
আরবিআইয়ের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পলিমার নোট চালু হলে জাল নোটের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।তবে এই পরিবর্তন সহজ হবে না। বিপুল পরিমাণ নোট ছাপানো, বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া এবং পুরোনো নোট ফেরত নেওয়ার বিশাল লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি। অনেকে হয়তো প্রথমে নতুন নোট দেখে অবাক হবেন বা সন্দেহ করবেন। তাই আরবিআইকে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। প্রথমে হয়তো ছোটো মূল্যের নোট দিয়ে শুরু হবে, পরে বড়ো নোটে যাওয়া হবে।
আরও দেখুনঃ গাজিয়াবাদে শম্ভু নাম নিয়ে জোর করে তরুণীর ধর্মান্তকরণ করতে গিয়ে পুলিশের জালে সামির আলভি





