শিবলিঙ্গ ভেঙে মূত্রত্যাগ! যোগী রাজ্যের হামিরপুরে হাতিমকে ধোলাই দিয়ে পুলিশে জমা গ্রামবাসীর

হামিরপুর, উত্তর প্রদেশ: শান্ত গ্রামের মন্দিরে হঠাৎই ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ও নিন্দনীয় ঘটনা ( Temple Vandalism)। মহম্মদ হাতিম নামে এক যুবক শিবলিঙ্গ ভাঙচুর করেন,…

hamirpur-temple-vandalism

হামিরপুর, উত্তর প্রদেশ: শান্ত গ্রামের মন্দিরে হঠাৎই ঘটে গেল এক অপ্রত্যাশিত ও নিন্দনীয় ঘটনা ( Temple Vandalism)। মহম্মদ হাতিম নামে এক যুবক শিবলিঙ্গ ভাঙচুর করেন, মন্দিরের ভিতরে মূত্রত্যাগ করেন এবং মন্দির প্রাঙ্গণে ব্যাপক ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঘটনাস্থলেই আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

ঘটনাটি ঘটেছে হামিরপুর জেলার একটি গ্রামে। সকালের দিকে মন্দিরে পূজা দিতে আসা ভক্তরা দেখেন মন্দিরের অবস্থা ভয়ানক। শিবলিঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত, চারপাশে ভাঙা জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং মন্দিরের ভিতর অপবিত্র অবস্থা। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা তৎক্ষণাৎ খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা মোহাম্মদ হাতিমকে কাছাকাছি এলাকা থেকে আটক করতে সক্ষম হন।

আরও দেখুনঃ গুজরাটের অপহৃত হীরে ব্যাবসায়ীকে ফেরাতে ৪ মিলিয়ন ইউরো মোদী সরকারের! ফের সরব বিরোধীরা

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, তিনি ঘটনার পরও সেখানে ঘুরছিলেন।স্থানীয়রা তাঁকে আটক করে থানায় খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই এলাকারই বাসিন্দা। কী কারণে তিনি এমন কাজ করেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মানসিক ভারসাম্যহীনতা, নেশার প্রভাব অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে পুলিশ বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত করছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত মানুষ মন্দির প্রাঙ্গণে জড়ো হন। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা শুধু একটা মন্দিরের অপমান নয়, পুরো সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।” তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড়ো ধরনের অশান্তি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এলাকায়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্দির কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, শিবলিঙ্গের ক্ষতি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। পূজা-অর্চনা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ভক্তরা মন্দির পরিষ্কার করতে এবং পবিত্র করতে সাহায্য করছেন। এই ধরনের ঘটনা উত্তর প্রদেশে বিরল নয়, তবে প্রতিটি ঘটনাই সমাজে উদ্বেগ বাড়ায়।

আরও দেখুনঃ পলিমার নোটে বড় পদক্ষেপ! পলিমার সাবস্ট্রেট শিটের জন্য বিশ্বব্যাপী টেন্ডার ডাকল আরবিআই

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “আমরা পুরো ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করছি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত, পাবলিক প্লেসে অশান্তি সৃষ্টি এবং সম্পত্তি নষ্টের মামলা দায়ের করা হয়েছে।” আদালতে তোলার পর তাঁকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।