নয়াদিল্লি: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির হাত থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর থেকে লিটার প্রতি ১০ টাকা করে আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কমানোর কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।
পাশাপাশি, দেশে জ্বালানির জোগান যাতে স্বাভাবিক থাকে, তার জন্য ডিজেল এবং এটিএফ (ATF) বা বিমানের জ্বালানি রফতানির ওপর যথাক্রমে লিটার প্রতি ২১.৫ টাকা এবং ২৯.৫ টাকা শুল্ক আরোপ করেছে সরকার।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরান হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে।
সরবরাহে বিঘ্ন: বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ গ্যাস এবং তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটেছে।
মূল্যবৃদ্ধি: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭২.৮৭ ডলার, যা একলাফে প্রায় ৪৮.২২ শতাংশ বেড়ে ১০৮.০১ ডলারে পৌঁছেছে।
খুচরো বাজারে কি পেট্রল-ডিজেলের দাম কমবে?
না, এখনই সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পাম্পে জ্বালানির দাম কমছে না। মূলত তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMC) বিপুল লোকসানের বোঝা কমাতেই এই শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারও খুচরো বাজারে পেট্রল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তিতই ছিল। এমকে গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মুহূর্তে তেল কোম্পানিগুলির মার্কেটিং মার্জিন ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে (পেট্রলে -২৫ টাকা এবং ডিজেলে -৪৫ টাকা প্রতি লিটার)।
কী বলছেন মন্ত্রীরা?
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কথা মাথায় রেখে দেশে ব্যবহারের জন্য পেট্রল ও ডিজেলের ওপর কেন্দ্রীয় আবগারি শুল্ক ১০ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে মূল্যবৃদ্ধির হাত থেকে গ্রাহকরা রক্ষা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবসময় এটা নিশ্চিত করেছেন যাতে সাধারণ নাগরিকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এবং জোগানের এই অনিশ্চয়তার হাত থেকে সুরক্ষিত থাকেন।”
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানান, তেল কোম্পানিগুলি পেট্রলে লিটার প্রতি প্রায় ২৪ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল। তাঁর কথায়, গত এক মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম ৭০ ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ১২২ ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে ইউরোপ থেকে শুরু করে আমেরিকা ও আফ্রিকায় জ্বালানির দাম ২০% থেকে ৫০% পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, “মোদী সরকারের কাছে দুটি বিকল্প ছিল, হয় অন্যান্য দেশের মতো নাগরিকদের জন্য দাম ব্যাপক হারে বাড়িয়ে দেওয়া, অথবা আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে রাজকোষের ওপর সেই দায়ভার নেওয়া। প্রধানমন্ত্রী মোদী দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছেন।”




















