নয়াদিল্লি: দেশের বিভিন্ন রাজ্যের অনেক গির্জায় (FCRA)সম্প্রতি বিশেষ প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন এফসিআরএ (বিদেশি অবদান নিয়ন্ত্রণ আইন) নিয়মের বিরোধিতা করা হয়েছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অনেক নেতা দাবি করছেন, নতুন নিয়মগুলো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ‘প্রতিপক্ষ’ হিসেবে দেখছে এবং তাদের সম্পত্তি ও কার্যক্রমের উপর হুমকি তৈরি করছে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, এই নিয়মগুলো শুধু বিদেশি অর্থের অপব্যবহার রোধ করার জন্য, বিশেষ করে অবৈধ ধর্মান্তরকরণ বন্ধ করতে।নতুন নিয়মে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংগঠনগুলোকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ও প্রকাশনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিতে হবে, বিদেশি দাতাদের চূড়ান্ত পরিচয় প্রকাশ করতে হবে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম থেকে স্পষ্টভাবে ধর্মান্তরকরণ বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নজরদারি ও শাস্তির বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ অমরনাথ যাত্রার আগেই বড় সাফল্য! সেনাবাহিনীর জালে দেশে জঙ্গি ঢোকানো লতিফ
অনেক গির্জা কর্তৃপক্ষ এই নিয়মকে অত্যধিক হস্তক্ষেপমূলক বলে মনে করছেন।দক্ষিণ ভারতের একটি বড় গির্জার পাদরি ফাদার জনসন বলেন, “আমরা বিদেশি অনুদানে স্কুল, হাসপাতাল ও দরিদ্রদের সেবা করি। এখন এই নিয়মগুলো আমাদের কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে। মনে হয় সরকার আমাদের প্রতি সন্দেহের চোখে দেখছে।” কয়েকটি গির্জায় প্রার্থনা সভায় শত শত বিশ্বাসী অংশ নিয়ে সরকারের কাছে নিয়ম পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছেন।
তারা দাবি করেন, এই নিয়ম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করছে এবং তাদের সম্পত্তির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে।অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এফসিআরএ নিয়ম সংশোধনের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়, বিদেশি অর্থ কোনো কোনো সংগঠন অবৈধ ধর্মান্তরকরণ, সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টি বা অন্যান্য অবৈধ কাজে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ এসেছে।
তাই চূড়ান্ত দাতাদের পরিচয় জানা এবং ধর্মান্তরকরণকে আলাদা করে চিহ্নিত করা জরুরি। একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “এটা কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। যারা স্বচ্ছভাবে কাজ করেন, তাদের কোনো সমস্যা হবে না। কিন্তু অপব্যবহার চলতে দেওয়া যাবে না।”ভারতে এফসিআরএ নিয়মের অধীনে হাজার হাজার এনজিও বিদেশি অনুদান পান।
এর মধ্যে খ্রিস্টান মিশনারি সংগঠনগুলো উল্লেখযোগ্য অংশ। তারা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও দরিদ্র কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে যে, সেবার নামে ধর্মান্তরের কাজ চলে। এই বিতর্ক দীর্ঘদিনের। সরকারের নতুন পদক্ষেপ এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতেই বলে মনে করা হচ্ছে।





