যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এনেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন, ‘ড্রোন ওয়ারিয়র’ তৈরি করছে ভারতীয় সেনা

আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন দ্রুত অন্যতম প্রাণঘাতী ও কার্যকর অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হোক কিংবা পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, সর্বত্রই ড্রোন একটি নির্ণায়ক ভূমিকা…

Indian Army Drone

আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন দ্রুত অন্যতম প্রাণঘাতী ও কার্যকর অস্ত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হোক কিংবা পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, সর্বত্রই ড্রোন একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধের এই পরিবর্তনশীল প্রকৃতি উপলব্ধি করে ভারতও দ্রুত তার সেনাবাহিনীকে ড্রোন প্রযুক্তিতে সজ্জিত করতে শুরু করেছে।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় ড্রোন কার্যকরভাবে ব্যবহার করে ভারতীয় সেনাবাহিনী তার সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। এই সময়কালে, তারা কেবল নিজেদের ড্রোন দিয়ে নজরদারি ও আক্রমণই চালায়নি, বরং শত্রুপক্ষের ড্রোনও ভূপাতিত করেছে।

প্রত্যেক সৈনিক ড্রোন চালক হবেন
ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন প্রত্যেক সৈনিককে ড্রোন চালনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, পদাতিক ইউনিটগুলিতে মৌলিক ড্রোন প্রশিক্ষণের প্রথম পর্যায় সম্পন্ন হয়েছে। এর মানে হল, প্রত্যেক সৈন্যকে এখন ড্রোন পরিচালনা ও প্রাথমিক জ্ঞানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এখন উন্নত প্রশিক্ষণের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে সৈন্যদের বিশেষ অভিযান, নজরদারি এবং ড্রোন প্রতিরোধের কৌশল শেখানো হচ্ছে। এ উদ্দেশ্যে দেশজুড়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও স্থাপন করা হচ্ছে।

প্রতিটি ব্যাটালিয়নে একটি ড্রোন প্লাটুন
একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে, সেনাবাহিনী প্রতিটি পদাতিক ব্যাটালিয়নে ‘আশানি প্লাটুন’ নামে একটি ড্রোন ইউনিট স্থাপন করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮০টি ব্যাটালিয়নে এই প্লাটুনগুলো সক্রিয় করা হয়েছে। এগুলো বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ড্রোন দিয়ে সজ্জিত।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলিতে নতুন সুবিধা
ড্রোন প্রশিক্ষণ জোরদার করার জন্য সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। দেরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি (আইএমএ), মহোর ইনফ্যান্ট্রি স্কুল এবং চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে (ওটিএ) ইতিমধ্যে ড্রোন প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। সৈনিক ও অফিসার উভয়কেই ড্রোন পরিচালনায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

ঈগল ইন দ্য আর্ম কনসেপ্ট
ভারতীয় সেনাবাহিনী এই মিশনের নাম দিয়েছে “ঈগল ইন দ্য আর্ম”। এর অর্থ হলো, প্রত্যেক সৈনিক ড্রোনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে প্রত্যেক সৈনিকের ড্রোন পরিচালনা করার ক্ষমতা থাকবে।

যুদ্ধ থেকে চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহার
ড্রোনের ব্যবহার শুধু হামলায় সীমাবদ্ধ নয়। সামরিক বাহিনী নজরদারি, রসদ সরবরাহ এবং রোগী স্থানান্তরের মতো চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতেও এগুলো ব্যবহার করছে। এছাড়াও, শত্রুপক্ষের ড্রোন ধ্বংস করার জন্য পাল্টা-ড্রোন ব্যবস্থাও দ্রুত মোতায়েন করা হচ্ছে।

২০২৭ সালের মধ্যে এক বিরাট লক্ষ্য
ভারতীয় সেনাবাহিনীর লক্ষ্য হলো ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের শতভাগ পদাতিক সৈন্যকে ড্রোন পরিচালনায় সম্পূর্ণ প্রশিক্ষিত করা। এই লক্ষ্যে একটি বহুস্তরীয় ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, যা ড্রোন ব্যবহার এবং শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রতিহত করা—উভয় কাজেই সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে যুদ্ধের চেহারা পুরোপুরি বদলে যেতে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তায় একটি উল্লেখযোগ্য সহায়ক শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে।