লখনউ: উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গরু পাচার নিয়ে কর্মকর্তাদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। (Yogi Adityanath)মথুরায় সাম্প্রতিক ঘটনায় তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যদি কোনো এলাকায় গরু পাচারের ঘটনা ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের বলেছেন, অফিসে বসে থাকলে চলবে না এখন থেকে মাঠে নেমে কাজ করতে হবে, নজরদারি বাড়াতে হবে এবং কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।
এই সতর্কবার্তা এসেছে মথুরার কোসি কালান এলাকায় এক গো-রক্ষকের মৃত্যুর ঘটনার পর। স্থানীয় গো-রক্ষক চন্দ্রশেখর, যিনি ‘ফরসা ওয়ালে বাবা’ নামে পরিচিত, রাতের অন্ধকারে একটি ট্রাককে সন্দেহ করে থামানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, গো-তস্করদের ট্রাক তাঁকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়, ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দা ও গো-রক্ষকরা দিল্লি-আগ্রা হাইওয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান।
আরও দেখুনঃ যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন এনেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন, ‘ড্রোন ওয়ারিয়র’ তৈরি করছে ভারতীয় সেনা
পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়, পাথর ছোড়া হয়, কয়েকজন পুলিশকর্মী আহত হন। ভিড়কে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে হয়।পুলিশের দাবি, এটা কোনো গো-তস্করির সঙ্গে যুক্ত নয় ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। যে ট্রাকটি চন্দ্রশেখরকে চাপা দেয়, তাতে তার বা ফেনিলের মতো জিনিস ছিল, গরু নয়। যে গাড়িটি তিনি থামানোর চেষ্টা করেন, তাতেও খাদ্যসামগ্রী ছিল। তবে স্থানীয়রা এই দাবি মানছেন না। তারা বলছেন, এটা ইচ্ছাকৃত হত্যা, গো-তস্করদের কাজ। এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ঘটনার নোটিশ নেন।
তিনি মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দোষীদের কোনোমতেই ছাড় না দেওয়ার নির্দেশ দেন।লখনউতে গো-সংরক্ষণ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মথুরার ঘটনার পর্যালোচনা করে তিনি কর্মকর্তাদের তিরস্কার করেন। বলেন, গো-তস্করি যাতে না ঘটে, তার জন্য কড়া নজরদারি দরকার।
কর্মকর্তারা যদি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তাহলে তাদের চাকরি বা পদ যাবে এমন কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক গোশালায় ‘ভুসা ব্যাঙ্ক’ তৈরি করতে হবে, সিসিটিভি লাগাতে হবে এবং গো-রক্ষণের জন্য বিশেষ টিম গঠন করতে হবে। অফিসে বসে ফাইল ঘাঁটলে চলবে না মাঠে নেমে কাজ করতে হবে, রাতের টহল বাড়াতে হবে, সন্দেহজনক যানবাহন চেক করতে হবে।



















