যোগী সরকারের বদনাম করতে গিয়ে সমাজবাদী নেতার কালোবাজারি ফাঁস

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় বিশাল পরিমান মজুত ডিজেল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। (diesel black marketing)প্রায় ৩৬০০ লিটার ডিজেলসহ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার হয়েছে রামানন্দ যাদব নামে…

deoria-diesel-black-marketing-samajwadi-leader-yogi-government-controversy

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলায় বিশাল পরিমান মজুত ডিজেল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। (diesel black marketing)প্রায় ৩৬০০ লিটার ডিজেলসহ বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার হয়েছে রামানন্দ যাদব নামে এক ব্যক্তির বাসভবন থেকে। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির আবহে এই অভিযানকে অনেকে ‘কালোবাজারি রোধে বড় পদক্ষেপ’ বলে মনে করছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই মজুত সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে জ্বালানির ঘাটতি দেখিয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে বদনাম করা যায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে দেওরিয়া পুলিশ রামানন্দ যাদবের বাড়িতে হঠাৎ অভিযান চালায়। অভিযানের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে পুলিশ কর্মীরা বাড়ির বিভিন্ন অংশ থেকে ড্রাম ও ট্যাঙ্কে ভরা ডিজেল বের করছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ ডিজেল বৈধ কোনো লাইসেন্স ছাড়াই মজুত করা হয়েছিল। পুলিশের ধারণা, এটি কালোবাজারির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।

   

আরও দেখুনঃ বড় ধাক্কা বিজেপিতে! ৩০ পরিবারসহ বিজেপির মণ্ডল সদস্যের তৃণমূলে যোগ

বাজারে ডিজেলের দাম বাড়লে এই মজুত বিক্রি করে মোটা লাভের পরিকল্পনা ছিল।অভিযানের পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে সমাজবাদী পার্টির কিছু ব্যক্তির যোগসাজশ থাকতে পারে। অভিযোগ উঠেছে যে, বিরোধী দলের লোকজন ইচ্ছাকৃতভাবে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকারের বিরুদ্ধে অসন্তোষ ছড়ানোর চেষ্টা করছিল। যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সমালোচনা করতে এই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রামানন্দ যাদবসহ অন্যান্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তদন্ত আরও কড়া হবে। বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে অনেক দেশেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে যদি কালোবাজারি বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব পড়তে পারে। ডিজেলের অভাবে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই পুলিশের এই অভিযানকে অনেকে ‘সময়োচিত’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন।সমাজবাদী পার্টির পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, যোগী সরকার বিরোধীদের হয়রানি করার জন্য এ ধরনের মামলা সাজাচ্ছে। তাঁরা দাবি করেন, রামানন্দ যাদবের সঙ্গে দলের কোনো সরাসরি যোগ নেই এবং এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন, উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যোগী সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এখন স্পষ্ট। কোনো ব্যক্তি বা দল যদি জনস্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।