নয়াদিল্লি: সোমবার দুপুরে দিল্লি বিধানসভা চত্বরে এক অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। (Delhi Assembly)একটি সাদা এসইউভি গাড়ি, যার নম্বর প্লেট উত্তরপ্রদেশের, মুখোশ পরা এক চালকের নিয়ন্ত্রণে বিধানসভার সীমানা গেট নং ২ ভেঙে জোর করে ভিতরে ঢুকে পড়ে। এই ঘটনায় পুরো বিধানসভা চত্বরে নিরাপত্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক হয়ে ওঠেন এবং ঘটনাস্থলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।দিল্লি সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুপুর প্রায় দুটোর সময় গাড়িটি গেট নং ২-এর লোহার ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে।
চালক মুখে মাস্ক পরা ছিলেন। গাড়িটি সরাসরি বিধানসভা স্পিকার বিজেন্দ্র গুপ্তার অফিসের দিকে এগিয়ে যায়। সেখানে পোর্চের কাছে একটি ফুলের তোড়া রেখে চালক দ্রুত গাড়ি ঘুরিয়ে বেরিয়ে যান। ঘটনার পরপরই বিধানসভা চত্বরের বাইরে থেকে তোলা ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, নিরাপত্তা কর্মীরা দৌড়াদৌড়ি করছেন এবং পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।এই ঘটনা দিল্লি বিধানসভার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ফাঁক তুলে ধরেছে।
আরও দেখুনঃ রাশিয়ার Il-114-300 বিমান প্রস্তুত, শীঘ্রই পাবে অনুমোদন, ভারতে প্রবেশের জন্যও চলছে প্রস্তুতি
গেট নং ২ সাধারণত ভিভিআইপি প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত এবং সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা। তবুও একটি গাড়ি জোর করে ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়তে পারল এটি অনেকের কাছেই প্রশ্ন তুলেছে। দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে। গাড়ির উত্তরপ্রদেশ নম্বর প্লেট দেখে পুলিশ সেই দিকেও নজর দিয়েছে।স্পিকার বিজেন্দ্র গুপ্তার অফিসের সামনে ফুলের তোড়া রাখার ঘটনাটি অনেককে বিস্মিত করেছে।
কেউ কেউ এটিকে প্রতীকী প্রতিবাদ বলে মনে করছেন, আবার কেউ কেউ এর পিছনে আরও গভীর কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পুরো চত্বর ঘিরে ফেলেন। স্পিকারের গাড়িতে কালি ছোড়ার খবরও কিছু সূত্রে উঠে এসেছে, যদিও এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।দিল্লি বিধানসভা চত্বর সবসময়ই উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকে।
এখানে বিধায়ক, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা নিয়মিত আসেন। এমন একটি ঘটনা ঘটায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলছেন, এটি খুবই গুরুতর ল্যাপস। অন্যদিকে শাসক দলের নেতারা বলছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন না ঘটে সেজন্য নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।



















