
হুমায়ুন কবীরের ভিডিও বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়কের ঘিরে তৈরি হওয়া এই রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ঘটনার শুরু একটি ৫১ মিনিটের ভিডিওকে কেন্দ্র করে, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়। ভিডিওটির সত্যতা, প্রেক্ষাপট এবং উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাজনৈতিক মাঠে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে এক জনসভা থেকে তিনি পরোক্ষভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, আসন্ন ২০২৬ সালের নির্বাচনে নিজেদের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত বুঝেই শাসক দল ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার করে ভুয়ো ভিডিও তৈরি করে জনমতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। মোদীর বক্তব্য অনুযায়ী, এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর মিথ্যাচার ভবিষ্যতের রাজনীতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ভিডিও বা কনটেন্টের প্রভাবে যেন কেউ প্রভাবিত না হন। তাঁর মতে, গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য প্রযুক্তির অপব্যবহার করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সরাসরি হুমায়ুন কবীরের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই মন্তব্য ঘুরপথে ওই বিতর্কিত ভিডিওর দিকেই ইঙ্গিত করেছে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে যে ভিডিওটি নিয়ে তোলপাড় চলছে, সেটি ঘিরে ইতিমধ্যেই পক্ষ-বিপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে।

