
২১ ঘণ্টা ধরে চলল এক টানা টানাপোড়েনপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক। বন্ধ দরজার আড়ালে অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথন আলোচনায় শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। বহু প্রত্যাশিত ওই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে যে আশার আলো দেখা গিয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে যায়। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর উদ্দেশ্যে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বাস্তবে তা আরও এক দফা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিল।
আমেরিকার পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলের দাবি, বৈঠকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হয়েছিল একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে উপ-রাষ্ট্রপতির পর্যায়ের প্রতিনিধি জেডি ভ্যান্স বৈঠকের পর জানান, তারা যতটা সম্ভব নমনীয়তা দেখিয়েছেন এবং আলোচনাকে সফল করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইরান কোনোভাবেই আমেরিকার শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি। ফলে কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
অন্যদিকে ইরানের অবস্থান ছিল শুরু থেকেই কঠোর। তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকা আলোচনায় এমন কিছু শর্ত আরোপ করেছে যা ইরানের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণভাবে অযৌক্তিক। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, দেশটির প্রতিনিধিরা প্রায় একটানা ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনায় অংশ নিয়ে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু আমেরিকার অনড় অবস্থানের কারণে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইরানের মতে, আলোচনার ব্যর্থতার দায় সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপরই বর্তায়।

