নয়াদিল্লি: ভারতের বৈদেশিক নীতিতে এক নতুন মাইলফলকের দিকে এগোচ্ছে সম্পর্ক। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (India UAE defence) সঙ্গে একটি বড়সড় স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স পার্টনারশিপ চুক্তি স্বাক্ষরের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ভারত। এই খবরটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি আমিরাত সফর করে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন।
গত জানুয়ারিতে ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের ভারত সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে একটি লেটার অফ ইনটেন্ট (LoI) স্বাক্ষরিত হয়। এই চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুই পক্ষ একটি পূর্ণাঙ্গ স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট-এর দিকে এগিয়ে যাবে। এর আওতায় প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ, বিশেষ অভিযান, সাইবার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং সামরিক আন্তঃকার্যকারিতা বাড়ানোর মতো বিস্তৃত ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়বে।
আরও দেখুনঃ নাম বাদ পড়া ভোটারদের নিয়ে বড় প্রতিশ্রুতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
জয়শঙ্করের ১১-১২ এপ্রিলের আমিরাত সফরে এই বিষয়টি আবার উঠে এসেছে। আবুধাবিতে ইউএই নেতৃত্বের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব দিক পর্যালোচনা করেন। প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘কোর পিলার’ হিসেবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তায় ভারতের বড় স্বার্থ রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের অংশীদারিত্ব আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে যৌথ মহড়া বেড়েছে, সার্ভিস চিফদের মধ্যে নিয়মিত বিনিময় হয়েছে। কিন্তু এবারের LoI-কে অনেকেই ‘গেম চেঞ্জার’ বলে মনে করছেন। এর মাধ্যমে শুধু অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় নয়, যৌথ উন্নয়ন, প্রযুক্তি শেয়ারিং এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমন্বয়ের পথ খুলবে। ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানি বাড়ানোর লক্ষ্যেও ইউএই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে।
এই চুক্তির অর্থনৈতিক দিকটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দুই দেশ ইতিমধ্যে বাণিজ্য দ্বিগুণ করে ২০৩২ সালের মধ্যে ২০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে। জানুয়ারিতে ৩ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভারতকে ইউএই-এর সবচেয়ে বড় এলএনজি ক্রেতা বানিয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়লে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের নতুন দরজা খুলবে।




















