জেনেভা: জেনেভায় রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের (UNHRC Geneva) সাম্প্রতিক অধিবেশনে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র কথার লড়াই হয়েছে। ভারতের প্রতিনিধি অনুপমা সিং পাকিস্তানের জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে অভিযোগের জবাবে এমন কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন সেই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেশ আলোড়ন তুলেছে। অনুপমা সিং সরাসরি বলেছেন, পাকিস্তান “লা-লা ল্যান্ডে” বাস করে, অর্থাৎ বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটা কল্পিত জগতে।
এই ঘটনা ঘটেছে UNHRC-এর ৬১তম অধিবেশনের হাই-লেভেল সেগমেন্টে, যেখানে পাকিস্তান ও ইসলামিক কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (OIC) জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছিল। ভারতের পক্ষ থেকে ‘রাইট অব রিপ্লাই’ ব্যবহার করে অনুপমা সিং জবাব দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের এই অবিরাম প্রচারণা এখন ঈর্ষার গন্ধ ছড়াচ্ছে। OIC-কে তিনি একটা “ইকো চেম্বার” বলে অভিহিত করেন, যেখানে শুধু একটা দেশের কথাই প্রতিধ্বনিত হয়।
অনুপমা সিং জোর দিয়ে বলেন, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ অতীতে ছিল, এখন আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। ১৯৪৭ সালের ভারতীয় স্বাধীনতা আইন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে জম্মু-কাশ্মীরের ভারতের সঙ্গে যোগদান সম্পূর্ণ বৈধ ও অপরিবর্তনীয়। পাকিস্তানের কোনো কল্পিত বক্তব্য বা প্রচারণা এই সত্যকে বদলাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চল নিয়ে একমাত্র অমীমাংসিত বিষয় হল পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড।
পাকিস্তানকে সেই এলাকা খালি করার আহ্বান জানান তিনি।বক্তব্যের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়নের উদাহরণ। অনুপমা সিং উল্লেখ করেন, গত বছর উদ্বোধন হওয়া চন্দ্রভাগা রেল সেতু বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু রেল সেতু। তিনি বলেন, যদি এই সেতুকে ‘নকল’ বলে মনে করা হয়, তাহলে পাকিস্তান হয়তো ভ্রমের মধ্যে আছে বা সত্যিই “লা-লা ল্যান্ডে” বাস করছে।
আরও একটা শক্তিশালী তথ্য তুলে ধরেন তিনি জম্মু-কাশ্মীরের উন্নয়ন বাজেট পাকিস্তানের আইএমএফ থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক বেলআউট প্যাকেজের দ্বিগুণেরও বেশি। এটা পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের অগ্রগতির তীব্র তুলনা।ভারতের এই কূটনৈতিক আক্রমণের পিছনে রয়েছে একটা স্পষ্ট বার্তা পাকিস্তান নিজের অভ্যন্তরীণ সংকট, অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে মুখোশ পরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতকে আক্রমণ করছে।
অনুপমা সিং বলেন, পাকিস্তানের উচিত নিজের গভীর সংকট ঠিক করার দিকে মনোযোগ দেওয়া, এমন মঞ্চে গ্র্যান্ডস্ট্যান্ডিং করে লাভ নেই। বিশ্ব এখন তাদের এই নাটক দেখে ফেলেছে।এই ঘটনা ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের কাশ্মীর বিতর্কের আরেকটা অধ্যায়। ভারত বারবার বলে আসছে যে আর্টিকেল ৩৭০ বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
সেখানে নির্বাচন হচ্ছে, পরিকাঠামো গড়ে উঠছে, পর্যটন বাড়ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের অর্থনীতি ধুঁকছে, আইএমএফ-এর দরজায় দরখাস্ত নিয়ে ঘুরছে। এই তথ্যগুলো দিয়ে ভারত প্রমাণ করতে চাইছে যে, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ শুধু প্রচারণা, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।




















