নয়াদিল্লি: ভারত এখন গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (India GCC) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) আলোচনা শুরু করেছে, যা দেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য পদচিহ্নকে আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE), কুয়েত, কাতার, ওমান এবং বাহারিন এই ছয়টি দেশ নিয়ে গঠিত জিসিসি ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নয়াদিল্লির বাণিজ্য ভবনে ভারত এবং জিসিসির মধ্যে ‘টার্মস অফ রেফারেন্স’ (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা করে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এই অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। ভারতের পক্ষে অতিরিক্ত সচিব ও প্রধান আলোচক অজয় ভাদু এবং জিসিসির পক্ষে প্রধান আলোচক ড. রাজা আল মারজুকি এই দলিলে স্বাক্ষর করেন।
আরও দেখুন: আমরা ২, আমাদের ২ ডজন! জনবিস্ফোরণের স্লোগান মিম নেতার
এই চুক্তির আলোচনা আসলে পুরনো। ২০০৪ সালে ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট স্বাক্ষরের পর ২০০৬ এবং ২০০৮ সালে দু’দফা আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু ২০১১ সালের পর জিসিসি সব এফটিএ আলোচনা স্থগিত করে দেয়। প্রায় ১৫ বছর পর এই আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ায় উভয় পক্ষই উচ্ছ্বসিত। পীযূষ গোয়েল বলেছেন, এই চুক্তি পণ্য, পরিষেবা, বিনিয়োগ এবং শ্রম গতিশীলতার ক্ষেত্রে আরও মুক্ত প্রবাহ নিশ্চিত করবে।
এতে নীতিগত স্থিতিশীলতা আসবে, বিনিয়োগ বাড়বে এবং দু’পক্ষের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। জিসিসির প্রধান আলোচক রাজা আল মারজুকি বলেছেন, বিশ্বায়নের ওপর আক্রমণের এই সময়ে এ ধরনের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানিয়েছেন, প্রথম দফা আলোচনা সম্ভবত রিয়াদে জিসিসি সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে।জিসিসি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই অঞ্চলে প্রায় ১ কোটি ভারতীয় বাস করেন এবং কাজ করেন। তারা শুধু অর্থনৈতিক নয়, মানুষে-মানুষে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। ভারতের তেল আমদানির বড় অংশ আসে এই দেশগুলো থেকে। অন্যদিকে, ভারত জিসিসি দেশগুলোতে খাদ্য, ওষুধ, প্রকৌশলী পণ্য, আইটি পরিষেবা এবং নির্মাণ সামগ্রী রফতানি করে। বর্তমানে জিসিসি ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি গ্রুপ।
ইতিমধ্যে ভারত ইউএই-এর সঙ্গে ২০২২ সালে সিইপিএ (কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করেছে এবং ওমানের সঙ্গে সম্প্রতি একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত। এই নতুন এফটিএ পুরো জিসিসিকে কভার করবে, যা ভারতের রফতানি বাড়াতে, শুল্ক কমাতে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে সাহায্য করবে।এই উদ্যোগ ভারতের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উত্থানের অংশ।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক দেশ ও ব্লকের সঙ্গে এফটিএ চূড়ান্ত বা আলোচনা চালাচ্ছে। জিসিসির সঙ্গে চুক্তি হলে ভারতের বাণিজ্য ভলিউম আরও বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শক্তি নিরাপত্তা মজবুত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে শ্রমিকদের ভিসা-সংক্রান্ত সুবিধা বাড়তে পারে, যা গালফে কর্মরত ভারতীয়দের জন্য বড় স্বস্তি।




















