কলকাতা: নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ইছাপুর মায়াপল্লি এলাকায় ভোটের দিন সকালে ফের ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে (Ichapur)। বিজেপি নেতা ও নোয়াপাড়া বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী, প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, বুথ নম্বর ৮২ ও ৮৩-এর বাইরে একটি নকল (ডামি) ইভিএম মেশিন রাখা হয়েছিল। ভোটারদের সেখানে নিয়ে গিয়ে বলা হচ্ছিল কোন বাটন টিপতে হবে।
তিনি এটিকে স্পষ্ট ভোটারদের প্রভাবিত চেষ্টা বলে উল্লেখ করেছেন।অর্জুন সিং সকাল থেকেই নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথ পরিদর্শন করছিলেন। মায়াপল্লি এলাকায় ৮২-৮৩ নম্বর বুথের সামনে পৌঁছে তিনি দেখতে পান যে, বুথের বাইরে একটি ইভিএম মেশিন রাখা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের লোকজন ভোটারদের সেই ডামি মেশিনের সামনে দাঁড় করিয়ে বলে দিচ্ছিল কোন প্রার্থীর বাটন টিপতে হবে।
অর্জুন সিং বলেন, “এটা পরিকল্পিত কারচুপি। ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে ডামি ইভিএম রাখা হয়েছে। তৃণমূল ভোটের প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে।”ইছাপুর ও নোয়াপাড়া এলাকা অর্জুন সিংয়ের রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য পরিচিত। তিনি এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়। ভোটের দিন এমন অভিযোগ ওঠায় বিজেপি শিবিরে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অর্জুন সিং আরও বলেছেন, “ভোটাররা যাতে সঠিক প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারে, সেজন্যই এই ছলনার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন “আমরা নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাঁরা ‘ভোট চুরি বন্ধ করো’, ‘ইভিএম খুলে দেখাও’ জাতীয় স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশকে মোতায়েন করতে হয়। অর্জুন সিং দাবি করেন, এই ধরনের কারচুপির চেষ্টা শুধু একটি-দুটি বুথে সীমাবদ্ধ নয়, পুরো কেন্দ্রে তৃণমূলের লোকজন এভাবে ভোট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, অর্জুন সিং হেরে যাওয়ার আশঙ্কায় আগে থেকেই ইভিএম নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছেন। নোয়াপাড়া তৃণমূল প্রার্থী জানিয়েছেন যে, ভোট সুষ্ঠুভাবে চলছে এবং কোনো অনিয়ম হচ্ছে না। তাঁরা অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পালটা অভিযোগও তুলেছেন।




















