দক্ষিণ ২৪ পরগনার বসন্তী বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের দিন সকালে ফের উত্তেজনা ও অশান্তির খবর সামনে এসেছে। (Basanti BJP)বিজেপি প্রার্থী বিকাশ সর্দার দাবি করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের ২০০-২৫০ জন কর্মী-সমর্থক তাঁর গাড়িতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। লাঠি, বাঁশ ও রড দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি তাঁর ড্রাইভারকেও মারধর করা হয়েছে।
বিকাশ সর্দার বলেছেন, “সারা কেন্দ্র জুড়ে তৃণমূলের গুন্ডাগিরি চলছে। আমার গাড়িতে ২০০-২৫০ জন তৃণমূলের গুন্ডা রড ও বাঁশ দিয়ে হামলা করেছে। আমার ড্রাইভারকেও আক্রমণ করা হয়েছে।”ঘটনাটি ঘটেছে বসন্তী বাজার এলাকায়। বিজেপি প্রার্থী হিসেবে বিকাশ সর্দার সকালে বুথ পরিদর্শন ও প্রচারে বেরিয়েছিলেন। তিনি জানান, তাঁর গাড়িবহর যখন বাজারের কাছে পৌঁছায়, তখনই একদল লোক হঠাৎ করে ঘিরে ধরে হামলা শুরু করে।
আরও দেখুনঃ ইভিএম বিভ্রাট কাটিয়ে চারুচন্দ্র কলেজে ভোট দিলেন চিরঞ্জিৎ
গাড়ির কাচ ভাঙা হয়, গাড়ির বিভিন্ন অংশে রড ও লাঠির আঘাত করা হয়। ড্রাইভারকে নামিয়ে মারধর করা হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। বিকাশ সর্দার বলেন, “এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পুরো বসন্তী কেন্দ্রে তৃণমূলের লোকজন এভাবেই ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”বসন্তী (এসসি) বিধানসভা কেন্দ্রটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।
#WATCH | West Bengal: Claiming an attack on his car by TMC workers, BJP candidate from the Basanti assembly constituency, Bikash Sardar, says, “Gundagiri by TMC is happening everywhere in the constituency. 200-250 TMC goons attacked my car with rods and bamboo sticks. They also… pic.twitter.com/nvJ9oxCAxx
— ANI (@ANI) April 29, 2026
এখানে মৎস্যজীবী ও প্রান্তিক মানুষের সংখ্যা বেশি। গত কয়েকটি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত প্রভাব রয়েছে। বিজেপি এবার বিকাশ সর্দারকে প্রার্থী করে পরিবর্তনের আশা করছে। সর্দার নিজে স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং দলের হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সুবিধা নিয়ে বিরোধীদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ঘটনার পর বিজেপি শিবির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, ভোটের দিনেও যদি এমন হামলা চলে তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নির্ভয়ে ভোট দেবেন? কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিকাশ সর্দার নিজে বলেছেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রচার করছিলাম। কিন্তু তৃণমূল গুন্ডারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
এটা গণতন্ত্রের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক।”অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। দলের নেতারা বলছেন, বিজেপি কর্মীরাই প্রথমে উস্কানি দিয়েছে এবং স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা দাবি করেন যে, ভোট সুষ্ঠুভাবে চলছে এবং বিজেপি শুধুমাত্র হারের অজুহাত তৈরি করতে এমন অভিযোগ ছড়াচ্ছে।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনীসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।বসন্তীর এই ঘটনা দ্বিতীয় দফার ভোটে রাজ্যজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে বিজেপির অভিযোগ যে তৃণমূলের ‘গুন্ডাগিরি’ চলছে, অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি যে বিজেপি বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। সাধারণ ভোটাররা এমন পরিস্থিতিতে চিন্তিত। অনেকেই বলছেন, ভোটের দিনেও যদি এমন হামলা ও উত্তেজনা চলে তাহলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।




















