Health Tips: জাপান বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু মানুষের দেশ হিসেবে পরিচিত। শতবর্ষ পার করেও সুস্থ ও সক্রিয় জীবনযাপন করা বহু মানুষের বাস সেখানে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ তাদের সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনধারা। বিশেষ করে জাপানি নারীদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার থাকে, যা শরীরকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করতে পারে।
এসব খাবারে রয়েছে প্রোবায়োটিক, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা হজমশক্তি ভালো রাখা থেকে শুরু করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
১. ফারমেন্টেড বাঁধাকপি
গাঁজন করা বাঁধাকপি বা ফারমেন্টেড ক্যাবেজ জাপানের জনপ্রিয় খাবারগুলির একটি।
এতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের ক্ষয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।
২. কুজু (Kuzu)
কুজু গাছের শিকড় থেকে তৈরি এই উপাদান জাপানি রান্নায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এটি বিভিন্ন স্যুপ ও সস ঘন করতে ব্যবহৃত হলেও, হজমের সমস্যা কমানো এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এর সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
৩. কুকিচা চা (Kukicha Tea)
চা গাছের ডাল ও কাণ্ড দিয়ে তৈরি কুকিচা চায়ে সাধারণ গ্রিন টি-র তুলনায় ক্যাফিনের পরিমাণ কম।
এতে রয়েছে বিভিন্ন খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ভিটামিন, যা শরীরকে সতেজ রাখতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৪. মিসো স্যুপ
ফারমেন্টেড সয়াবিন থেকে তৈরি মিসো স্যুপ জাপানের অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী খাবার।
এতে রয়েছে প্রোটিন, প্রোবায়োটিক এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মিসো স্যুপ খেলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা মিলতে পারে। তবে এতে সোডিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
৫. উমেবোশি (Umeboshi)
জাপানি প্লাম গাঁজন করে তৈরি উমেবোশি স্বাদে টক-নোনতা হলেও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ।
এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং প্রোবায়োটিক, যা হজমে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এটি কম ক্যালোরিযুক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে অনেকেই এটি বেছে নেন।
শুধু এই খাবার খেলেই কি দীর্ঘায়ু সম্ভব?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘায়ুর পেছনে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবার নয়, বরং সম্পূর্ণ জীবনযাপন পদ্ধতিই গুরুত্বপূর্ণ।
সুস্থ থাকতে প্রয়োজন—
• সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
• নিয়মিত শরীরচর্চা
• পর্যাপ্ত ঘুম
• মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
• ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা
• নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা
অর্থাৎ, জাপানি খাদ্যাভ্যাসের কিছু উপকারী খাবার দৈনন্দিন ডায়েটে যুক্ত করা যেতে পারে। তবে শুধুমাত্র এই খাবারগুলির উপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করলেই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।
আরও পড়ুন-
লক্ষ্য মূলপর্ব! এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সহজ গ্রুপে ইস্টবেঙ্গল,
এক লাফে ধুলিসাৎ ২২ বছরের পুরনো রেকর্ড! অ্যাথলেটিক্সে ভারতের নতুন রানির উদয়
খাদের কিনারা থেকে ফিনিক্স পাখির মতো উত্থান বিশ্বকাপে শেষ মুহূর্তের অবিশ্বাস্য ম্যাজিক!
ফিরিয়ে দিয়েছিলেন IPL অফার, এখন দিন কাটছে সাধারণ চাকরি করে


