বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। (Haringhata)এবার সেই উত্তাপের আঁচ পড়ল নদীয়ার ৯৩-হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রে। প্রার্থী বদলের দাবিতে বিজেপির অন্দরমহলেই শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, যা রীতিমতো চাপে ফেলেছে দলীয় নেতৃত্বকে।
বুধবার কাস্টডাঙ্গা বাজার এলাকায় শতাধিক বিজেপি কর্মী-সমর্থক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। তাদের মূল দাবি দল ঘোষিত প্রার্থী অসীম কুমার সরকারকে অবিলম্বে বদল করতে হবে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পরেও তাকে এলাকায় দেখা যায় না এবং স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেন না। কর্মীদের একাংশের বক্তব্য, “আমরা এমন একজন প্রার্থী চাই, যিনি এলাকার মানুষ, আমাদের সমস্যাগুলো বোঝেন। বাইরে থেকে কাউকে চাপিয়ে দিলে আমরা মেনে নেব না।” এই ‘ভূমিপুত্র প্রার্থী’-র দাবিই এখন আন্দোলনের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
আরও দেখুনঃ হাত ভাঙল! বিজেপিতে যোগ দিলেন কংগ্রেস সাংসদের
এছাড়াও, অসীম কুমার সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের দাবি, তিনি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিজের মতো কাজ করেন এবং এইমসে চাকরি দেওয়ার নাম করে দুর্নীতির সঙ্গেও জড়িত। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও তা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যদি দ্রুত প্রার্থী বদল না করা হয়, তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। এমনকি প্রয়োজনে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানোর কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন। এই হুঁশিয়ারি বিজেপির জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের মুখে এই ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব কোনও দলের পক্ষেই শুভ লক্ষণ নয়। বিশেষ করে যখন প্রতিটি আসনই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তখন এই ধরনের বিভাজন বিরোধী দলগুলির কাছে বাড়তি সুবিধা এনে দিতে পারে। অন্যদিকে, জেলা ও রাজ্য স্তরের বিজেপি নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে সূত্রের খবর, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে বিজেপি কি শেষ পর্যন্ত কর্মীদের চাপে নতি স্বীকার করে প্রার্থী বদল করবে? নাকি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই বহাল থাকবে? এই সিদ্ধান্তই অনেকটাই নির্ধারণ করবে হরিণঘাটা কেন্দ্রের নির্বাচনী সমীকরণ। উল্লেখ্য, হরিণঘাটা বিধানসভা কেন্দ্র নদীয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন, যেখানে স্থানীয় সমীকরণ এবং সংগঠনের শক্তি বড় ভূমিকা পালন করে। এখানে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষ থাকলে তার প্রভাব সরাসরি ভোটে পড়তে পারে।




















