হাবড়া: দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ চলাকালীন উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া বিধানসভা কেন্দ্রের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রাজনীতির এক অন্যরকম মুখ দেখা গেল (Habra)। তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর শংকর ঘোষ ও বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মন্ডল বুথের সামনে দেখা হয়ে যাওয়ায় একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করলেন। দুই প্রার্থীর মধ্যে এই হৃদ্যতাপূর্ণ আচরণ ভোটের উত্তেজনাময় পরিবেশে এক ঝলক স্বস্তি এনে দিল।বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মন্ডল এই ঘটনার পর সাংবাদিকদের বলেন, “মানুষ যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ে নিয়েছে।
মানুষ ইচ্ছেমতো যেকোনো দলে যোগ দিতে পারে, কিন্তু তার জন্য সৌজন্যবোধ নষ্ট হবে কেন? রাজনীতি করতে গিয়ে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করে ফেলার কোনো মানে হয় না।” তিনি আরও জানান, তৃণমূল কাউন্সিলর শংকর ঘোষের সঙ্গে তাঁর প্রায় ৩৫ বছরের পুরনো সম্পর্ক। দুজনে অনেকদিন ধরে একে অপরকে চেনেন। তাই ভোটের লড়াইয়ের মাঝেও তাঁরা পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সৌজন্য বজায় রেখেছেন।
আরও দেখুনঃ কালীঘাটে শুভেন্দুকে ‘জয় বাংলা’ অভ্যর্থনা! বুথ চত্বর থেকেই ফোনে কমিশনকে নালিশ
তৃণমূল কাউন্সিলর শংকর ঘোষও একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, “হাবড়ায় বরাবরই সৌজন্যের রাজনীতি চলে আসছে। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হতে পারি, কিন্তু মানুষ হিসেবে একে অপরের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত।” দুই প্রার্থীর এই বিনিময়ের ভিডিয়ো দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই এটিকে ‘ভোটের মাঝে আশার আলো’ বলে অভিহিত করেছেন।
হাবড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাব থাকলেও, এবারের নির্বাচনে বিজেপি যথেষ্ট সক্রিয়। দেবদাস মন্ডল স্থানীয়ভাবে পরিচিত এবং তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে অনেকেই তাঁকে পছন্দ করেন। তবে ভোটের লড়াই যতই তীব্র হোক, দুই প্রার্থীর এই সৌজন্যমূলক আচরণ দেখে অনেক ভোটারই খুশি হয়েছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ভোটের সময় সাধারণত গালাগালি, হামলা আর উত্তেজনাই দেখা যায়। কিন্তু আজ হাবড়ায় যা দেখলাম, তা সত্যিই ভালো লাগল। দুজনেই হাসিমুখে কথা বললেন, এটাই তো আসল রাজনীতি হওয়া উচিত।” আরেকজন বলেন, “রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকবে, কিন্তু ব্যক্তিগত শত্রুতা রাখার দরকার কী?”দেবদাস মন্ডল আরও বলেন, “আমরা দুজনেই হাবড়ার মানুষের সেবা করতে চাই। ভোটে যে জিতুক, সে যেন এলাকার উন্নয়ন করে। আমাদের সম্পর্ক ৩৫ বছরের, ভোটের জন্য সেটা নষ্ট করব কেন?”




















