কলকাতা: এলপিজি সংকটের জেরে কলকাতার হোটেল ও রেস্তোরাঁ (Kolkata Restaurants) বন্ধের মুখে৷ শুধু তাই নয় দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা৷ শহরের বহু নামী রেস্তোরাঁ এখন গ্যাস বাঁচাতে মেনুতে কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছে৷ ফলে বিরিয়ানি, চাঁপ বা চিকেন বাটার মশালার মতো জনপ্রিয় পদ অর্ডার করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই ‘নেই’ শুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের৷ তার বদলে তন্দুরি চিকেন, চিকেন টিক্কা বা অন্য তন্দুরি আইটেমের উপরেই জোর দিচ্ছে রেস্তোরাঁগুলি৷
রেস্তোরাঁ মালিকদের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবেই এই সংকট তৈরি হয়েছে৷ পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে এলপিজি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ ফলে দেশে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান কমতে শুরু করেছে৷ তেল বিপণন সংস্থাগুলিও আপাতত বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে কিছুটা লাগাম টেনেছে বলে অভিযোগ৷
কলকাতার এক নামী রেস্তোরাঁ চেনের কর্তা জানান, তাঁদের কাছে মাত্র কয়েক দিনের গ্যাস মজুত রয়েছে৷ তাই বাধ্য হয়ে এমন সব আইটেম কমানো হচ্ছে যেগুলি রান্না করতে বেশি গ্যাস লাগে৷ অনেক জায়গায় এখন ইলেকট্রিক ওভেন ও ইন্ডাকশন ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে৷ তবে এইভাবে দীর্ঘদিন চালানো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে৷
শহরের বাইরের এলাকাতেও একই ছবি৷ ব্যারাকপুর ও সোদপুরে একটি জনপ্রিয় বিরিয়ানি চেনের তিনটি আউটলেটে প্রতিদিন প্রায় ৩০টি বাণিজ্যিক সিলিন্ডার লাগে৷ কিন্তু সম্প্রতি মাত্র কয়েকটি সিলিন্ডারই জোগাড় করা সম্ভব হয়েছে৷ তাই বিরিয়ানি চালু রাখতে বিকল্প হিসেবে কাঠকয়লা ব্যবহারের কথা ভাবছেন মালিকরা৷
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্র সরকারও নড়েচড়ে বসেছে৷ বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহের সমস্যা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ পাশাপাশি ঘরোয়া গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই ব্যাহত না হয়, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে৷




















