অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: ভারতের স্বাধীনতা, দেশভাগ এবং স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের পটভূমিতে তৈরি হতে চলেছে নতুন বাংলা ছবি ‘শ্যামা’। এই ছবির কেন্দ্রে থাকবেন শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদ এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (Shyama Prasad Mukherjee)। নির্মাতাদের দাবি, ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ সালের ভারতের ইতিহাসকে কেন্দ্র করেই ছবির গল্প এগোবে।
ছবিটি পরিচালনা করছেন সুচন্দ্রা ভানিয়া এবং চন্দ্রোদয় পাল। জানা গিয়েছে, ছবির গবেষণার দায়িত্বে ছিলেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। নির্মাতাদের মতে, এই ছবিতে দেশভাগ, জাতীয় ঐক্য, বাংলার ভবিষ্যৎ এবং স্বাধীন ভারতের নির্মাণের নানা দিক তুলে ধরা হবে।
১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়কে তুলে ধরবে ছবি
নির্মাতাদের দাবি, ‘শ্যামা’ শুধুমাত্র একটি জীবনীচিত্র নয়। বরং এটি স্বাধীনতার আগে ও পরের ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র।
ছবিতে দেশভাগের সময়কার পরিস্থিতি, পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সামাজিক ও জাতীয় ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে কীভাবে দেখানো হবে?
ছবির নির্মাতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরা হবে, যিনি দেশভাগের সময় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে রাখার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
এছাড়াও দেশভাগের পর উদ্বাস্তু হিন্দু বাঙালিদের অধিকার ও পুনর্বাসনের প্রশ্নেও তাঁর ভূমিকার বিষয়টি ছবিতে তুলে ধরা হবে বলে নির্মাতারা জানিয়েছেন।
নির্মাতাদের দাবি, ছবিতে তাঁকে এমন একজন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হবে, যিনি জাতীয় ঐক্য, এক সংবিধান এবং একক জাতীয় পরিচয়ের পক্ষে বিশ্বাসী ছিলেন।
পরিচালকদের বক্তব্য
ছবি প্রসঙ্গে পরিচালক সুচন্দ্রা ভানিয়া ও চন্দ্রোদয় পাল বলেন, “ইতিহাস শুধু কিছু তারিখ বা ঘটনাপঞ্জি নয়। ইতিহাস তাঁদের গল্প, যাঁরা আরামের বদলে আদর্শকে বেছে নিয়েছিলেন। ‘শ্যামা’ তৈরির মাধ্যমে আমাদের উদ্দেশ্য তেমনই এক জীবনযাত্রার চলচ্চিত্ররূপ তুলে ধরা, যা দর্শকের ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নিয়ে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে। ইতিহাস দ্বারা অনুপ্রাণিত হলেও, ‘শ্যামা’ মূলত অতীতকে সিনেমার ভাষায় নতুন ভাবে উপলব্ধি করার এক চেষ্টা।”
গবেষণার দায়িত্বে তরুণজ্যোতি তিওয়ারি
ছবির গবেষণার দায়িত্বে থাকা বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, “আমি এই ছবির অংশ হতে পেরে গর্বিত। কারণ, আধুনিক প্রজন্মের ভাষায় ইতিহাস বলা খুব জরুরি। আমরা আমাদের অতীত না জানলে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা কঠিন। এই ছবি এমন এক অনুপ্রেরণার গল্প বলবে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে সহজেই পৌঁছে যাবে।”
ইতিহাসভিত্তিক সিনেমা নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ
সাম্প্রতিক সময়ে ইতিহাসভিত্তিক এবং বাস্তব চরিত্রনির্ভর সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ‘শ্যামা’ও ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে।
তবে ছবির গল্প, বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার উপস্থাপনা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনকে কীভাবে পর্দায় তুলে ধরা হবে, তা জানা যাবে ছবিটি মুক্তির পরই। নির্মাতাদের আশা, এই চলচ্চিত্র শুধু একটি ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবনকাহিনি নয়, বরং স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়কে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরবে।





