কলকাতা: গত বছর নভেম্বর মাসে জামিন পাওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার চেষ্টায় ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি কি ফের টিকিট পাবেন? এই প্রশ্ন যখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঠিক তখনই বড়সড় ধাক্কা খেলেন পার্থ। এসএসসি (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তৎপরতা বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
তৎপর ইডি, ডাক পড়ল অর্পিতারও
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে দোলের ঠিক পরেই পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে ফের তলব করল ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রে খবর, আগামী ১৬ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে তাঁদের দু’জনকে হাজিরার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ কারাবাসের পর বর্তমানে দু’জনেই জামিনে মুক্ত থাকলেও, এসএসসি নিয়োগ সংক্রান্ত তদন্তে তাঁদের নাম নতুন করে একাধিক তথ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
কেন এই তলব? ed summons partha and arpita
তদন্তকারী মহলের দাবি, এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে বিশাল আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তার সমান্তরাল তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ইতিমধ্যেই সিবিআই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিয়েছে এবং প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় চার্জ গঠনও সম্পন্ন হয়েছে। তবে ইডির আধিকারিকদের বক্তব্য, নতুন কিছু নথি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে পার্থ ও অর্পিতার নাম সামনে এসেছে। সেই তথ্য যাচাই করতে এবং আর্থিক লেনদেনের মূল উৎস খুঁজে পেতেই দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।
টিকিট জল্পনায় জল?
জামিন পাওয়ার পর থেকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজে ২০২৬-এর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতির ছায়া যেভাবে তাঁর পিছু ছাড়ছে না, তাতে দলের অন্দরে এবং রাজনৈতিক মহলে তাঁর ভাবমূর্তি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দোলের উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই কেন্দ্রীয় সংস্থার এই নতুন পদক্ষেপে পার্থ-অর্পিতার ওপর আইনি চাপ যে কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য।
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্যের রাজনীতির আবহ যে আগামী সপ্তাহে ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে, ইডির এই পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।




















