কলকাতা: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED investigation) তদন্তে ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ (টিটিআই)-এর বিদেশি তহবিলের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনা শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং বিদেশি অর্থের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যকলাপ এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নকেও সামনে এনেছে। সূত্রের খবর এই অর্থ মাওবাদী-প্রভাবিত ছত্তিশগড়ের সংবেদনশীল এলাকায় ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি ইডি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে একযোগে অভিযান চালিয়ে ২৫টি আমেরিকান ব্যাঙ্ক-লিঙ্কড ডেবিট কার্ড, প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা নগদ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইস ও নথি বাজেয়াপ্ত করেছে। এই কার্ডগুলো মূলত আমেরিকার ট্রুইস্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, ‘দ্য টিমোথি ইনিশিয়েটিভ’ নামের এই আন্তর্জাতিক ইভাঞ্জেলিক্যাল খ্রিস্টান মিশনারি নেটওয়ার্কটি সাধারণ বিদেশি তহবিল আনার চ্যানেলগুলোকে পুরোপুরি এড়িয়ে গিয়ে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা ভারতে পাঠিয়েছে।
আরও দেখুনঃ নর্তকীদের সঙ্গে যোগী রাজ্যের ‘সিংহম’ আইপিএস! মহুয়ার পোস্টে শোরগোল
২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই সময়কালে বিদেশি ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ দেশে ঢুকেছে বলে অভিযোগ।টিটিআই ভারতে এফসিআরএ (ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট)-এর অধীনে নিবন্ধিত নয়। ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণ বা ব্যবহার করা তাদের জন্য আইনত নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও বিদেশ থেকে আনা কার্ডগুলো ভারতে এনে এটিএম থেকে বারবার নগদ টাকা তোলা হয়েছে।
তদন্তকারীরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে একটি ‘প্যারালেল ক্যাশ ইকোনমি’ গড়ে তোলা হয়েছে, যা স্বাভাবিক ব্যাঙ্কিং চ্যানেল এবং নজরদারিকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ছত্তিশগড়ের ধামতারি ও বাস্তার অঞ্চলে, যেখানে মাওবাদী তৎপরতা এখনও রয়েছে, সেখানে গত কয়েক বছরে প্রায় ৬.৫ কোটি টাকা তোলা হয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে। এই টাকা টিটিআই-এর স্থানীয় কার্যকলাপের খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এই অর্থ মিশনারি কাজকর্মে ব্যবহার হয়েছে। গ্রামীণ ও আদিবাসী এলাকায় ধর্মান্তরকরণের অভিযোগও উঠেছে। মাওবাদী-প্রভাবিত বেল্টে এমন অর্থের প্রবাহ জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এই অঞ্চলগুলোতে ইতিমধ্যেই সুরক্ষা বাহিনী নকশালবাদ দমনে সফলতা পেয়েছে।
এখন বিদেশি অর্থের অনুপ্রবেশ যদি সেখানে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ায়, তাহলে তা নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এফসিআরএ আইনকে আরও কঠোর করার দাবি জোরদার হয়েছে। অনেকে বলছেন, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের বিরুদ্ধে নতুন নিয়মের প্রস্তাব নিয়ে যে বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে, তার পেছনে এ ধরনের ঘটনাই কারণ হতে পারে। কারণ এফসিআরএ-এর অধীনে নিবন্ধন না থাকা সত্ত্বেও বিদেশি অর্থ ব্যবহার করা যেন আর সম্ভব না হয়, সেজন্য সরকার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইডি-র তদন্ত এখনও চলছে। জব্দ করা ডিজিটাল নথি ও ডিভাইস থেকে আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।




















