খড়গপুর: রামনবমীর আর বেশি দেরি নেই। (Dilip Ghosh)তার আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর শহরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়ে গেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও রামনবমীকে ঘিরে আখড়া সংস্কৃতির চর্চা শুরু হয়েছে জোরকদমে। এই আবহেই খড়গপুরের শ্যামবাবার মাঠে অনুষ্ঠিত হল আখড়া প্রশিক্ষণ শিবির, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ।
শিবিরে এসে একেবারে পুরনো ছন্দে দেখা গেল তাঁকে। শুধু উপস্থিত থাকাই নয়, নিজেও হাতে লাঠি তুলে নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অনুশীলন করলেন। তাঁর এই অংশগ্রহণে শিবিরে উপস্থিত যুবকদের মধ্যে আলাদা উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। ছোট থেকে বড় সব বয়সের অংশগ্রহণকারীরা লাঠিখেলা অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন, আর তাঁদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দিলীপ ঘোষও লাঠি ঘুরিয়ে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করেন।
আরও দেখুনঃ ৮ বছর ছেলে বলে লালন-পালন! সাধুর টাকা মেরে পালাল মহম্মদ হাসিম
এই প্রশিক্ষণ শিবিরে খড়গপুরের বিভিন্ন আখড়া থেকে বহু ওস্তাদ এবং শিক্ষার্থী অংশ নেন। বহু পুরনো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যাতে নতুন প্রজন্ম তাদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পায়। দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রতি বছর রামনবমীর আগে এই ধরনের একটি সম্মিলিত অনুশীলনের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে সব আখড়ার সদস্যরা একসঙ্গে নিজেদের দক্ষতা ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান।
তিনি আরও বলেন, খড়গপুরে রামনবমীর উৎসব একটি বিশেষ ঐতিহ্য বহন করে। এই দিনে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আখড়ার সদস্যরা নিজেদের কৌশল ও শক্তির প্রদর্শন করেন। এই ঐতিহ্য বহু বছরের পুরনো এবং এখনও সমান উৎসাহে পালন করা হয়।
আখড়া সংস্কৃতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ জানান, এটি শুধুমাত্র লাঠিখেলা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শৃঙ্খলা, আত্মরক্ষা এবং সামাজিক সেবার ভাবনা। তিনি উল্লেখ করেন, অযোধ্যা-তে গেলে দেখা যায় বিভিন্ন সাধু-সন্তদের আখড়া রয়েছে, যারা সমাজের বিভিন্ন কাজে যুক্ত থাকেন। সেই ঐতিহ্যেরই এক ঝলক খড়গপুরের এই আখড়াগুলিতেও দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রামনবমীর সময় খড়গপুর একেবারে অন্য রূপ ধারণ করে। শহরের রাস্তায় রাস্তায় মিছিল, ঢাক-ঢোল, আর আখড়ার প্রদর্শনী সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে যুব সমাজের মধ্যে এই আখড়া সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে দিলীপ ঘোষকে একেবারে খোশ মেজাজে দেখা যায়। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও তিনি যে এই ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সময় দেন, তা অনেকের নজর কেড়েছে। তাঁর উপস্থিতি এবং অংশগ্রহণ শিবিরের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মত স্থানীয়দের।




















