সায়ন সেনগুপ্ত, কলকাতা: গত ২০২৪-২০২৫ সিজন যথেষ্ট হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। একের পর এক টুর্নামেন্টে ধরাশায় হচ্ছিল কলকাতা ময়দানের এই প্রধান। এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ তথা আইএসএলে একের পর এক হারের দরুন নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তৎকালীন সুপার কাপ জয়ী কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। এই পরিস্থিতিতে লাল-হলুদের হাল ধরেছিলেন আরেক স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজো (Oscar Bruzon)। সেই মরসুমটা কোনও রকম ভাবে শেষ হলেও গতবার একেবারে পুরনো ছন্দে ধরা দিয়েছিল মশাল ব্রিগেড।
আরও পড়ুন: বুধবার থেকেই কলকাতা লিগের প্রস্তুতি শুরু করছে সবুজ-মেরুন
ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপ থেকে শুরু করে পরবর্তীতে আইএফএ শিল্ড হোক কিংবা সর্বভারতীয় কাপ টুর্নামেন্ট সুপার কাপ। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই দৃষ্টিনন্দন ফুটবল খেলেছিলেন প্রত্যেকে। যার মধ্যে টাইব্রেকারে পরাজিত হয়ে ফস্কে গিয়েছিল শিল্ড ও সুপার কাপ। তারপর থেকেই সর্বভারতীয় ফুটবল টুর্নামেন্ট তথা আইএসএলকে পাখির চোখ করেছিলেন অস্কার। বলাবাহুল্য, তাঁর হাত ধরেই শাপমোচন ঘটেছে লাল-হলুদের। ২২ বছরের অপেক্ষার পর জাতীয় লিগ এসেছে লেসলি ক্লডিয়াস সরণীতে। এখনও সেই আনন্দের ঘোর রয়ে গিয়েছে সমর্থকদের মধ্যে।
আরও পড়ুন: সবুজ-মেরুন ছাড়লেন ডেগি কার্ডোজো, ‘বিস্ফোরক’ পোস্টে বিদায়ের কথা
তবে গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই ব্যাপকভাবে উঠে এসেছিল অস্কারের ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার কথা। এমনকি কয়েক সপ্তাহ পূর্বে মুম্বাই ম্যাচে নামার আগে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত হয়ে নিজের চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অস্কার। কিন্তু পরবর্তীতে দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনেকেই মনে করেছিলেন যে এবার হয়তো ভেবে দেখবেন কোচ। হিসেব অনুযায়ী গত ৩১শে মে ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে কোচের। এবার জুনের প্রথম সন্ধ্যাতেই দল ছাড়ার বিষয়টি নিজের সোশ্যাল সাইটে তুলে ধরেন তিনি। যা রীতিমতো মন ভেঙেছে সমর্থকদের।
সকল সভ্য সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘ গভীর আবেগ নিয়ে আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো লিখছি, আমাগো সমর্থকরা, আপনারাই ইস্টবেঙ্গল এফসি-র প্রাণ। এই সিজনটি আমি সারাজীবন মনে রাখব। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জয় ছিল ঐতিহাসিক, এবং সিনিয়র দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত প্রত্যেকে এটি অর্জন করেছেন। তাঁরা অসাধারণ পেশাদার এবং সর্বোপরি, অসাধারণ মানুষ। আমরা ডুরান্ড কাপ এবং ইন্ডিয়ান সুপার কাপের মতো দুটি মর্যাদাপূর্ণ কাপের ফাইনালেও পৌঁছেছিলাম, দুটিই পেনাল্টিতে হেরে যাই। এটি খুব কষ্টদায়ক ছিল, কিন্তু সেই ধাক্কা সামলে উঠে আইএসএল জেতার জন্য এই দলটি যে দৃঢ়তা ও স্থিরতা দেখিয়েছে, তার জন্য আমাদের সকলের গর্ব করা উচিত।’
আরও লেখেন, ‘ সিজন শেষ হওয়ার সাথে সাথে ৩১শে মে বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় ও কোচের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। জীবনের মতোই ফুটবলেও স্বচ্ছতা, পরিকল্পনা এবং দূরদৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থিতিশীলতা এবং সময়োপযোগী ও দৃঢ় পদক্ষেপ ছাড়া একটি বিজয়ী ক্রীড়া প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য অর্জন করতে পারে না।
তাই, আদ্রিয়ান, হাভিয়ের এবং আমি, যেমনটা আমরা এক মাস আগে একটি পিসি-তে জানিয়েছিলাম, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমরা ইস্টবেঙ্গল এফসি-তে আর কাজ চালিয়ে যাব না। এই যাত্রার অংশ হওয়া প্রত্যেক খেলোয়াড়, স্টাফ সদস্য, ক্লাব কর্মকর্তা এবং সমর্থকদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আপনারা আপনাদের সর্বস্ব দিয়েছেন, এবং আমি আশা করি বিনিময়ে আমরাও আপনাদের গর্ব করার মতো কিছু দিতে পেরেছি। ইস্টবেঙ্গল এফসি আমার হৃদয়ে সর্বদা একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে থাকবে।’




















