কলকাতা: আচমকা ইস্তফা দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এই ইস্তফায় হতবাক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (CV Ananda Bose)। তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতে তার বার্তা তুলে ধরে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ বার্তায় এই ঘটনায় নিজের বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের হঠাৎ ইস্তফার খবর তাকে হতবাক করেছে এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রকৃত কারণ এখনও তার জানা নেই। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি মনে করছেন, কেন্দ্রের তরফে কিছু চাপ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নাকি তাকে ফোন করে জানিয়েছেন যে আর যেন রবিকে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার মতে, দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী রাজ্যপাল নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করার একটি প্রচলিত প্রথা রয়েছে। সেই প্রথা উপেক্ষা করেই কেন্দ্র একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
আরও দেখুনঃ ভারত মহাসাগরে ডুবে যাওয়া নাবিকদের উদ্ধারে নামল ভারতীয় নৌবাহিনী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার বার্তায় আরও বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের মূল চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করে। তার মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক সহযোগিতামূলক হওয়া উচিত। কিন্তু এভাবে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা দেশের ফেডারেল কাঠামোর ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। তিনি কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছেন যেন গণতান্ত্রিক রীতি ও রাজ্যগুলির মর্যাদা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যপালের পদত্যাগ এবং নতুন রাজ্যপাল নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করে। অনেকেই মনে করছেন, আগামী নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক স্তরে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
উল্লেখ্য, সিভি আনন্দ বোস প্রায় সাড়ে তিন বছর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই সময়ে রাজ্য সরকার ও রাজভবনের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে মতবিরোধ দেখা গিয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে একাধিকবার।
অন্যদিকে, নতুন রাজ্যপাল হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে সেই আর. এন. রবি ইতিমধ্যেই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে তার নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক ব্যক্তিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে।
তবে এই নিয়োগ নিয়ে বিরোধী দলগুলির প্রতিক্রিয়াও সামনে আসতে শুরু করেছে। কেউ কেউ এটিকে কেন্দ্রের স্বাভাবিক সাংবিধানিক অধিকার বলে মনে করছেন, আবার অনেকেই বলছেন যে নির্বাচনের আগে এই ধরনের সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।




















