নয়াদিল্লি: মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো আঘাতে ভারত মহাসাগরে গতকাল ডুবে গিয়েছিল ইরানের ফ্রিগেট IRIS Dena (IRIS Dena)। এই ঘটনার পরপরই সমুদ্রের মধ্যে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে ভারতীয় নৌবাহিনী। জরুরি বিপদ সংকেত পাওয়ার পরই ভারতীয় নৌবাহিনী দ্রুত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৪ মার্চ ভোরবেলায় ইরানের যুদ্ধজাহাজ IRIS Dena থেকে একটি বিপদ সংকেত (Distress Call) পৌঁছায় শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবস্থিত মেরিটাইম রেসকিউ কোর্ডিনেশন সেন্টারে। সেই সময় জাহাজটি শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় শহর গলের পশ্চিমে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। ওই এলাকা শ্রীলঙ্কার অনুসন্ধান ও উদ্ধার দায়িত্বের আওতায় পড়ে।
আরও দেখুনঃ গোয়ার বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্র ইস্টবেঙ্গলের
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার একটি সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইরানের এই ফ্রিগেট। আঘাত লাগার পর অল্প সময়ের মধ্যেই জাহাজটি ডুবে যায় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাহাজে থাকা নাবিকদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বিপদ সংকেত পাওয়ার পরই দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় নৌবাহিনী। ৪ মার্চ সকাল ১০টা নাগাদ একটি দীর্ঘ-পাল্লার মেরিটাইম প্যাট্রোল বিমান মোতায়েন করা হয়। এই বিমানটি সমুদ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধান চালাতে শুরু করে। শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বে চলা উদ্ধার অভিযানে এই বিমানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে আরেকটি বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত আকাশপথে লাইফ র্যাফ্ট বা ভাসমান উদ্ধার নৌকা ফেলা যায়। উদ্ধার অভিযানে যাতে কোনওরকম বিলম্ব না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে। এদিকে ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ জাহাজ INS Tarangini, যা ওই সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছিল, তাকেও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দেয় জাহাজটি এবং বিকেল ৪টা নাগাদ অনুসন্ধান এলাকায় পৌঁছে যায়।
তার আগেই শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে দিয়েছিল। সমুদ্রে নিখোঁজ নাবিকদের খুঁজে বের করতে যৌথভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করতে ভারতের কোচি থেকে সমুদ্র জরিপ জাহাজ INS Ikshak-কেও পাঠানো হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় পৌঁছে অনুসন্ধান অভিযান চালাচ্ছে। ডুবে যাওয়া জাহাজের ক্রুদের খোঁজে মানবিক উদ্যোগ হিসেবে ভারতীয় নৌবাহিনী এই অভিযান চালাচ্ছে।
নৌবাহিনীর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সমুদ্রের পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া বিবেচনা করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ নাবিকদের দ্রুত খুঁজে বের করার জন্য আকাশ ও সমুদ্র দুই পথেই অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত মহাসাগরে এই ধরনের সামরিক সংঘর্ষ বড় কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। যদিও এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট দেশগুলি।
তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর দ্রুত তৎপরতা প্রশংসিত হয়েছে। বিপদের মুহূর্তে সমুদ্রের মধ্যে আটকে পড়া নাবিকদের উদ্ধার করতে ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।




















