যশোর: শান্তির বার্তা দিয়ে যে আশ্রম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই যশোরের রামকৃষ্ণ মিশন এখন ক্ষোভ আর অসহায়তার সাক্ষী (Cow slaughter)। স্থানীয় সূত্র অনুসারে, মিশনের মন্দির চত্বরের একেবারে সামনে নিয়মিতভাবে গরু জবাই করা হচ্ছে। হিন্দু ভক্তরা যেখানে প্রার্থনা করতে আসেন, ঠিক সেখানেই রক্তের ধারা বয়ে যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, এটা শুধু গো হত্যা নয়, এটা এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ও অপমান।
রামকৃষ্ণ মিশনের অনুসারীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ঘটনা বেড়েছে। সকাল-সন্ধ্যায় মন্দিরে যাওয়া ভক্তরা দেখছেন, মাটিতে রক্তের দাগ, ছাল-চামড়া আর জবাইয়ের আওয়াজ। যারা এই জবাই করছেন, তাঁরা পরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে হিন্দুদের ‘সাম্প্রদায়িক’ বলে চিৎকার করছেন। হিন্দুরা যখন প্রতিবাদ করতে চান বা সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা বলেন, তখনই তাদের ওপর ‘সাম্প্রদায়িকতার’ অভিযোগ চাপিয়ে দেওয়া হয়।
আরও দেখুনঃনেক্সট জেন ট্যাঙ্ক নিয়ে ভারতকে রাশিয়ার বড় প্রস্তাব, মোদী সরকার কি প্রস্তুত থাকবে?
অনেক হিন্দু পরিবার এখন ভয়ে কথা বলতেও সাহস পাচ্ছেন না। বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই হিন্দু সংখ্যালঘুরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ছেন। হিন্দুদের নৃশংস হত্যা,মন্দিরে হামলা, জমি দখল, নিরাপত্তাহীনতা এসবের মাঝে যশোরের এই ঘটনা নতুন করে আলোড়ন তুলেছে। রামকৃষ্ণ মিশন শুধু একটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটা শিক্ষা, সেবা ও মানবতার প্রতীক।
স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে গড়া এই মিশন সব ধর্মের মানুষের জন্য খোলা। কিন্তু সেই জায়গাতেই যদি এক ধর্মের অনুভূতিকে এভাবে অবজ্ঞা করা হয়, তাহলে সহাবস্থানের কথা কীভাবে বলা যায়?স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অনেকেই অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। কেউ কেউ বলছেন, ভয়ে অনেক হিন্দু পরিবার চুপ করে আছেন। যারা কথা বলছেন, তাদেরকে ‘দেশবিরোধী’ বা ‘সাম্প্রদায়িক’ তকমা দেওয়া হচ্ছে।
এই দ্বৈত মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যখন সংখ্যালঘুদের অনুভূতিতে আঘাত লাগে, তখন কেন তাদের কণ্ঠস্বরকে দমিয়ে দেওয়া হয়? অথচ একই সময়ে অন্য ধর্মের অনুভূতির প্রতি এত সংবেদনশীলতা দেখানো হয় কেন?যশোরের এই ঘটনা শুধু একটা স্থানীয় বিষয় নয়। এটা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন। অনেকে মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয় যাতে হিন্দুরা ভয় পেয়ে চুপ করে যায় বা দেশ ছেড়ে চলে যায়। ফলে সীমান্তের ওপারে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে অনেক পরিবার আশ্রয় খুঁজছেন।




















