বাড়ির ফ্রিজে গোমাংস রাখার অপরাধে (cow meat controversy) পিটিয়ে মারা হয়েছিল মহম্মদ আখলাককে। গোমাংসের গুজব ছড়িয়ে ৫২ বছর বয়সী আখলাককে গণপিটুনি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। দাদরির সেই স্মৃতি যেন ফেরাল সোলাপুর। ফের গোমাংস বিতর্কে উত্তরপ্রদেশে খুন। আখলাকের পর এবার বলি আফতাব।
বিহারের বাসিন্দা আফতাব আলম। বন্ধু বীরেন্দ্রর ডাকে উত্তরপ্রদেশের সোলাপুরে যান। সেখানেই তাকে খুন করে বীরেন্দ্র। আফতাব আলমকে খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, জেরায় অপরাধ কবুল করেছে বীরেন্দ্র। খুনের ঘটনায় জড়িত আরও একজনের খোঁজে ময়দানে পুলিশ।
ধৃত বীরেন্দ্রর দাবি, আফতাব তার সহকর্মী ছিল। তারা কর্ণাটকে একসঙ্গে কাজ করত। একদিন খাসির মাংসের নাম করে বীরেন্দ্রকে গরুর মাংস খাওয়ায় আফতাব। পরে এ নিয়ে উপহাসও করে। সকলের সামনে নাকি বলে, গরু খাইয়ে বীরেন্দ্রকে ধর্মচ্যুত করেছে আফতাব। এতে চরম অপমানিত বদলার ছক কষতে শুরু করে। কর্ণাটকের কাজ সেরে বাড়ি ফিরে আফতাবকে চরম শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বীরেন্দ্র।
এ মাসের শুরুর দিকে আফতাবকে বাড়িতে ডাকে বীরেন্দ্র। সহকর্মীর আমন্ত্রণে বিহার থেকে উত্তরপ্রদেশের সোলাপুরে চলেও যায় আফতাব আলম। চরম পরিণতির কথা সে ভাবতেও পারেনি। পুলিশের দাবি, জেরায় বীরেন্দ্র জানিয়েছে যে এক সঙ্গীর সাহায্যে আফতাবের গলায় দড়ি দিয়ে পেচিয়ে খুন করেছে। তারপর নির্জন জায়গায় দেহ ফেলে আসে। খুনে ব্যবহৃত দড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
খুনের পরের দিন আফতাবের দেহ উদ্ধার হয়। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। আফতাবের বাড়িতেও খবর যায়। নিহতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে বীরেন্দ্রর নাম জানা যায়। কারণ খুনের পর আফতাবের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিজের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে বীরেন্দ্র। তাছাড়া সোলাপুরের এক এটিএমের সিসি ক্যামেরায় বীরেন্দ্র এবং আফতাবকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল। আফতাবের মৃত্যুর সঙ্গে বীরেন্দ্রর যোগ থাকার বিষয়টি পুলিশের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। ততক্ষণে গ্রাম ছেড়ে মামার বাড়িতে গা ঢাকা দিয়েছে বীরেন্দ্র। সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে পিটিয়ে খুন করা হয় মহম্মদ আখলাককে। সেই ঘটনা ঘিরে তোলপাড় হয় দেশ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। মোদী-জমানায় ভারত অসহিষ্ণু বলে প্রচার শুরু হয়। সেই ঘটনার পর এক দশক কেটে গিয়েছে। তৎকালীন মোদী সরকারের সমালোচকদের সুর এখন অনেক নরম। এরই মাঝে আফতাব আলমের খুন। এর পিছনেও সেই গোমাংস।




















