ছত্তিশগড়ের সাক্তি জেলায় বেদান্ত লিমিটেডের সিংহতারাই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে (Vedanta power plant)ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বয়লার বিস্ফোরণের মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে । ১৪ এপ্রিলের সেই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জন শ্রমিকের প্রাণ গেছে। দুইজন আরও আহত শ্রমিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় এই সংখ্যা বেড়েছে। বাকি ১২ জন এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।ঘটনাটি ঘটে ১৪ এপ্রিল বিকেলে।
কয়লাভিত্তিক ৬০০ মেগাওয়াটের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়লারের একটি টিউবে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। উচ্চচাপের সুপারহিট স্টিম ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। যারা সেই সময় কাজ করছিলেন, তাদের অনেকেই গুরুতরভাবে পুড়ে যান। প্রাথমিকভাবে চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহতদের মধ্যে অনেকের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গিয়েছিল।
আরও দেখুনঃ বিজেপি শাসনে নারী সুরক্ষা ভেঙে পড়েছে, সেলিমাবাদের জনসভা থেকে হুঙ্কার অভিষেকের
কয়েকজনকে রায়পুরের উন্নত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বয়লারের ভিতরে অতিরিক্ত জ্বালানি জমে চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই বিস্ফোরণ ঘটে। চিফ বয়লার ইন্সপেক্টরের প্রাথমিক রিপোর্টে অপারেশনাল ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং সম্ভবত উৎপাদন বাড়ানোর তাড়ায় নিরাপত্তা নিয়ম উপেক্ষা করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাক্তি পুলিশ একটি এফআইআর দায়ের করেছে।
বেদান্ত গ্রুপের চেয়ারম্যান অনিল আগরওয়ালসহ কোম্পানি এবং ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে।দুর্ঘটনায় মারা যাওয়া শ্রমিকদের অধিকাংশই ঠিকাদারি সংস্থা এনজিএসএল-এর অধীনে কাজ করতেন। তাদের মধ্যে ছত্তিশগড় ছাড়াও উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ এবং মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা ছিলেন। অনেকেই দিনমজুর হিসেবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী।
একজন শ্রমিক বাড়ি বানানোর স্বপ্ন দেখছিলেন, আরেকজন বিধবা স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য কাজ করতেন। তাদের আকস্মিক চলে যাওয়ায় পরিবারগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।বেদান্ত কোম্পানি এক বিবৃতিতে ঘটনাকে “দুর্ভাগ্যজনক” বলে উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছে। তারা আহতদের চিকিৎসার সব খরচ বহন করার কথা জানিয়েছে এবং মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংগঠন ও স্থানীয় মানুষেরা বলছেন, শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, দায়ীদের কঠোর শাস্তি চান তারা। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যে গাফিলতি ছিল, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।




















