নারীশক্তি ও নারী সুরক্ষার প্রশ্নে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) । একই সঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে সরব হন তিনি। শনিবার জামালপুর বিধানসভার সেলিমাবাদ ফুটবল ময়দানে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই রাজ্যের নাম বাংলা। এখানে যারা ধর্মের তাস খেলতে আসবে, তারাই হারিয়ে যাবে।”
জামালপুরের তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিকের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় বিপুল জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। সেখান থেকেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, সংসদে বিল এনে দেশকে বিভাজনের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল এবং সংবিধান পরিবর্তনের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে বিরোধী দলগুলি একজোট হয়ে সেই প্রচেষ্টা রুখে দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। নারী সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে বিজেপিকে কটাক্ষ করে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, শুধুমাত্র আইন আনলেই নারী শক্তির প্রকৃত সম্মান নিশ্চিত হয় না, এর জন্য প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি সত্যিই বিজেপি নারী ক্ষমতায়নে আন্তরিক হয়, তাহলে কেন নির্বাচনে মহিলাদের যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি যেখানে মাত্র ৩৩টি আসনে মহিলা প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস ৫২টি আসনে মহিলা প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে কোন দল নারী ক্ষমতায়নে বেশি গুরুত্ব দেয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, পশ্চিমবঙ্গের একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত শক্তি একত্রিত হয়ে লড়াই করছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে ইডি, সিবিআই, আয়কর দপ্তর, নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সবাই একদিকে এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অন্যদিকে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, “এটাই বাংলার মেয়েদের ক্ষমতা, এটাই তাদের সাহস ও নেতৃত্বের প্রতীক।”




















