গেরুয়া রাজ্যে নাবালিকার গণধ*র্ষ*ণ! ৮ পাঠানকে বেধড়ক পুলিশি দাওয়াই

আহমেদাবাদ: গুজরাটের খেড়া জেলায় এক নৃশংস ঘটনা সামনে এসেছে, যা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। (minor gang rape)এক সতেরো বছরের নাবালিকা মেয়েকে প্রায় তিন বছর ধরে…

gujarat-kheda-minor-gang-rape-case

আহমেদাবাদ: গুজরাটের খেড়া জেলায় এক নৃশংস ঘটনা সামনে এসেছে, যা সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। (minor gang rape)এক সতেরো বছরের নাবালিকা মেয়েকে প্রায় তিন বছর ধরে গণধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেল করে যাওয়ার অভিযোগে নয়জন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে আটজনকে গ্রেফতার করেছে, একজন এখনও পলাতক।ঘটনাটি খেড়া জেলার চান্দনা গ্রামের।

অভিযোগ অনুসারে, মূল অভিযুক্ত পরভেজ আনোয়ার খান ওরফে মুন্নাওয়ার খান পাঠান প্রথমে মেয়েটিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। তারপর তাকে ধর্ষণ করে এবং গোপনে ভিডিও রেকর্ড করে। সেই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। হুমকি দেয় ভিডিও ভাইরাল করে দেবে, মেরে ফেলবে। এই ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার বিভিন্ন জায়গায় ডেকে নিয়ে যেত এবং একা নয়, তার সঙ্গীদের সঙ্গে মিলে গণধর্ষণ করত।

   

আরও দেখুনঃ সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়াতে ভারতে ৩০০০ রাশিয়ান সেনা

২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই নৃশংসতা চলেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।গ্রেফতারকৃত আটজন হলেন মহির খান পাঠান (২৪), ফাইজান খান পাঠান (২৩), তৌফিক খান পাঠান (২৩), আয়ান খান পাঠান (১৯), মইন খান পাঠান (২২), মারুফ খান পাঠান (২৫), সালমান খান পাঠান (২৬) এবং মূল অভিযুক্ত পরভেজ। সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা এবং অধিকাংশের পদবি পাঠান।

পলাতক অভিযুক্তের নাম সাহিল পাঠান।খেদা টাউন পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট বিজয় পটেল জানান, মেয়েটি অনেকদিন ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত সাহস করে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এফআইআর নথিভুক্ত করে। মামলায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও হুমকি সম্পর্কিত ধারা এবং শিশু যৌন নির্যাতন থেকে সুরক্ষা আইন (পকসো অ্যাক্ট)-এর কঠোর ধারাগুলো যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, পরভেজ প্রথমে মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তারপর ধর্ষণ করে ভিডিও করে। সেই ভিডিও তার সঙ্গীদের দেখায় এবং তাদেরও অংশ নিতে উস্কানি দেয়। অভিযুক্তরা মেয়েটিকে বিভিন্ন জায়গায় ডেকে নিয়ে যেত এবং পালা করে নির্যাতন চালাত। ভিডিও ভাইরাল করার ভয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাকে চুপ করিয়ে রাখত। এই ঘটনা যে কোনো সভ্য সমাজের পক্ষে অত্যন্ত লজ্জাজনক।

মেয়েটির পরিবারের অবস্থা বর্ণনাতীত। একটি নাবালিকা সন্তানের এমন দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা কোনো বাবা-মায়ের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়। গ্রামের অনেকেই এই ঘটনায় স্তম্ভিত। স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের অপরাধ যাতে আর না ঘটে, তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।পুলিশ এখন তদন্তের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। ফরেনসিক পরীক্ষা, মেডিক্যাল পরীক্ষা চলছে। পলাতক অভিযুক্ত সাহিলকে ধরতে বিভিন্ন দল গঠন করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই মামলা অত্যন্ত গুরুতর। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।