কলকাতা: “আমি একজন মা, তাই ঘাতকদের ফাঁসি চাই না। ওরা সারাজীবন জেল খাটুক, এটাই আমার প্রার্থনা।” মধ্যমগ্রামে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথের এই কণ্ঠস্বর এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। বুধবার রাতে প্রিয় মেজ ছেলেকে হারানোর পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে তাঁদের বাড়িতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিজন ও প্রতিবেশীরা। (Chandranath Rath mother statement)
বুকের বাঁ দিকে ঘাতক বুলেট
পুলিশ সূত্রে খবর, আততায়ীদের ছোঁড়া দুটি গুলি চন্দ্রনাথের বুকের বাঁ দিকে বিঁধেছিল। অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি চালানোয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। টিভির পর্দায় ভাইয়ের ছবি দেখে প্রথম আঁতকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। এক আত্মীয়র কথায়, “রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ নিউজ চ্যানেলে ছবি দেখে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। প্রতিবেশীরা নিজেদের গাড়ি বের করে তখনই কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।”
নিশানায় শাসকদল: ‘সবই তৃণমূলের বানানো গল্প’
ছেলের মৃত্যুর জন্য সরাসরি তৃণমূলের একাংশের উস্কানিমূলক মন্তব্যকে দায়ী করেছেন হাসিরানি দেবী। তাঁর অভিযোগ, “নির্বাচনের ফল বেরনোর পর থেকেই বলা হচ্ছিল ‘দিল্লির বাবারা’ বাঁচাতে আসবে না। আজ ওরা সেটাই করে দেখাল। শুভেন্দু বাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পর থেকেই আমাদের পরিবার টার্গেট হচ্ছিল।” তাঁর দাবি, এটি কোনও সাধারণ অপরাধ নয়, বরং শাসকদলের সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।
‘শুভেন্দুকে বার্তা দিতেই এই খুন’
এই ঘটনায় বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে সরব হয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনী পরাজয়ের পর হতাশা থেকেই তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। কৌস্তভের কথায়, “শুভেন্দু অধিকারীকে একটা বার্তা দিতে চাইছে ওরা। কার্যত বলতে চাইছে, দেখ আমরা কী করতে পারি।”




















