পাঞ্জাব সরকারের তরফে নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের পরই কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল। আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডাকে এবার Z ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রদান করল কেন্দ্র। নিরাপত্তা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী তাঁর উপর সম্ভাব্য প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে—এই কারণেই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাঘব চাড্ডার নিরাপত্তায় থাকবে আধাসামরিক বাহিনী (প্যারামিলিটারি ফোর্স)। এই বাহিনী ২৪ ঘণ্টা তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। শুধু দিল্লি ও পাঞ্জাব এই দুই রাজ্যেই তিনি এই বিশেষ নিরাপত্তা কভার পাবেন বলে জানা গেছে। তাঁর চলাফেরা, জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।
সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি মূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি একটি রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত, Z ক্যাটাগরির নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, যাদের উপর উচ্চমাত্রার হুমকি থাকে বলে ধারণা করা হয়। এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে রাঘব চাড্ডার সঙ্গে সর্বক্ষণ সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী থাকবে। তাঁর বাসভবন, অফিস এবং যাতায়াতের পথেও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এছাড়া তাঁর সফরের সময় আগাম নিরাপত্তা যাচাই, রুট ক্লিয়ারেন্স এবং বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও থাকবে।
পাঞ্জাব সরকারের নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে অনেকেই জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। প্রশাসনিক মহলের মতে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের উপর ভিত্তি করেই নেওয়া হয়। রাঘব চাড্ডা আপ দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সাংসদ এবং জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি প্রায়ই আলোচনায় থাকেন। ফলে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে অতীতে একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে বলেও জানা যায়। নতুন এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে তাঁর ব্যক্তিগত সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সময়ও তিনি আরও নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবেন। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।তবে এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের মতে, নিরাপত্তা প্রত্যাহার এবং পুনরায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপএই দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত ছিল। অন্যদিকে, প্রশাসনের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া একটি রুটিন পদক্ষেপ।




















