CAA-তে মিলছে নাগরিকত্ব, ভোঁতা হচ্ছে তৃণমূলের অস্ত্র!

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) কার্যকর হওয়ার পর পরই রাজ্যের শরণার্থী জনবসতিগুলিতে নতুন হাওয়া। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাতে হাতে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পাচ্ছেন বহু আবেদনকারী। ভোটার তালিকা থেকে বাদ ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
caa-citizenship-west-bengal-refugee-settlements-tmc-bjp-politics

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) কার্যকর হওয়ার পর পরই রাজ্যের শরণার্থী জনবসতিগুলিতে নতুন হাওয়া। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাতে হাতে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পাচ্ছেন বহু আবেদনকারী। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা নেই—এই নিশ্চয়তাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। আর এই পরিস্থিতিই ভোঁতা করে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য রাজনৈতিক অস্ত্র—এমনই দাবি বঙ্গ বিজেপির।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে এসআইআর বিতর্কের আবহেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সিএএ আবেদন ক্যাম্প করেছে বিজেপি। নেতৃত্বে ছিলেন হরিণঘাটার বিধায়ক অসীম সরকার। তাঁর দাবি, বহু শরণার্থী ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছ থেকে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছেন এবং এতে উদ্বাস্তু সমাজের মধ্যে স্বস্তি ফিরছে।

   

২৪টি সিহক হেলিকপ্টার পাবে নৌসেনা, ভারত-আমেরিকার ৮০০০ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

অসীম সরকার বলেন, “আমার পালপাড়া এলাকার এক ছেলে শঙ্কর আজ সিটিজেনশিপ কার্ড পেয়ে আমাকে ফোন করে কাঁদছিল আনন্দে। বলছিল—বাবা, বিজেপি সরকার মতুয়া, নমঃশূদ্র ও সমস্ত হিন্দু উদ্বাস্তুদের জন্য যা করেছে তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ভারত মাতা কি জয়!” তাঁর আরও অভিযোগ, “যারা বলেছিল CAA-তে আবেদন করলে বাংলাদেশি বলে তাড়িয়ে দেবে, সেই সব তৃণমূল নেতারা দেখুন—প্রতিদিন মানুষ নাগরিকত্ব পেয়ে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছে। ভারত মাতা কি জয়। জয় বিজেপির জয়।”

রাজ্যের শরণার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ মতুয়া সমাজ। তাদের বাস মূলত বনগাঁ, হাবড়া, ঠাকুরনগর ও উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায়। এই অঞ্চলগুলিতে CAA–র বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিল তৃণমূল। তাদের বক্তব্য—CAA-তে আবেদন করলে নাগরিকত্ব হারাতে পারে মানুষ, সরকারি সুবিধাও নাও পেতে পারে।

কয়েকদিন আগেই বনগাঁর সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুনরায় বলেন, “CAA করলে নাগরিকত্ব যাবে, সুবিধা মিলবে না। সাবধান।” কিন্তু এই পরিস্থিতিতেই যখন এলাকার বহু মানুষ হাতে পাচ্ছেন নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট—তখন তৃণমূলের এই প্রচার কার্যত ভোঁতা হয়ে গেল বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। তাঁদের মতে, মতুয়াদের বড় অংশ এখন মনোযোগ দিচ্ছে বাস্তব তথ্যের দিকে—সার্টিফিকেট পাওয়াটা তাদের কাছে সরাসরি স্বস্তির বার্তা।

শরণার্থীদের হাতে প্রাপ্ত নাগরিকত্বের সার্টিফিকেটের ছবি অসীম সরকার নিজেই পোস্ট করেছেন ফেসবুকে। এরপর বহু মানুষ প্রশ্ন তোলেন “কতজন আবেদন করলেন? কতজন নাগরিকত্ব পেলেন?” এর জবাবে অসীম সরকারের সাফ বার্তা “দিদিমনি সিএএ-র বিরোধিতা করেছেন। আমি বলছি যারা CAA-তে আবেদন করবে তাদের নাম এসআইআর-এ থাকবে। বিজেপি কথা দেয় আর কাজ করে। মিথ্যাবাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শুধু ভোটের রাজনীতি করে না।”

এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধীরা বলছে—এসআইআর নিয়ে ভয় দেখিয়ে বিজেপি বিভাজন তৈরি করতে চাইছে। তবে বিজেপির বক্তব্য এসআইআর মানে সুশাসন, অনিয়ম রোধে আধুনিক রেকর্ড, আর এতে আতঙ্কের কিছু নেই।

CAA কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে শরণার্থী রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। মতুয়া সমাজের রাজনৈতিক আনুগত্য বহু নির্বাচনী আসনে ফলাফল নির্ধারণ করতে পারে। তাই নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি যে আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে, তা পরিষ্কার।

তৃণমূল অবশ্য পাল্টা বলছে CAA বাস্তবায়ন হচ্ছে বৈষম্যমূলকভাবে, আর এতে অনেকের ভবিষ্যৎ ঝুলে যাচ্ছে। কিন্তু শরণার্থী শিবিরগুলিতে এখন একটাই আলোচনা “সার্টিফিকেট হাতে পাওয়া মানেই ভবিষ্যৎ নিরাপদ।” রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন—CAA ইস্যুতে নতুন করে মেরুকরণ তৈরি হলে আগামী নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বেই।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google