মুম্বই: রান্নার গ্যাস (LPG) নিয়ে ভারতে পৌঁছে গেল ‘নন্দাদেবী’। মঙ্গলবার সকালে গুজরাতের ভাদিনার বন্দরে পৌঁছেছে এলপিজি বোঝাই ট্যাঙ্কারটি। এর পরিমাণ প্রায় ৪৫-৪৭ হাজার টন। সোমবারই এলপিজি বোঝাই ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’ পৌঁছেছিল গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ‘নন্দাদেবী’ও প্রবেশ করল গুজরাতের বন্দরে।
এই মুহূর্তে যুদ্ধের চিত্র আলাদাই আকার ধারন করেছে, আর এমন পরিস্থিতির মাঝে প্রভাব পড়েছে হরমুজ় প্রণালীতেও। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথকে প্রায় অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। উল্লেখ্য বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজে হামলাও হয়েছে। এইরকম পরিস্থিতিতে হরমুজ় প্রণালীর দু’দিকে আটকে পড়ছে বিভিন্ন দেশের পণ্যবাহী জাহাজ। তালিকায় কিছু ভারতীয় জাহাজও রয়েছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি এলপিজি বোঝাই দু’টি ভারতীয় জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী পার করতে দেয় ইরান।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ দিয়ে মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করেছে। তার মধ্যে শিবালিক এবং নন্দাদেবী হল যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয়। প্রথমটি ছিল লাইবেরিয়ার পতাকাধারী একটি ট্যাঙ্কার। সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সেটি রওনা হয়েছিল। শিবালিক এবং নন্দাদেবী শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার (এসসিআই) জাহাজ।
এই দুই ট্যাঙ্কার সম্পর্কে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বক্তব্য, নয়াদিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে বোঝাপড়ার ভিত্তিতেই ভারতের পতাকা বহন করা গ্যাসবাহী দু’টি ট্যাঙ্কার নির্বিঘ্নে হরমুজ় পেরোয়। এই প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আমি ওদের (ইরান) সঙ্গে কথা বলছি এবং এই কথাবার্তার ফলে কিছু ফল পাওয়া যাচ্ছে।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “এই প্রক্রিয়া (ইরানের সঙ্গে কথাবার্তা) চলছে। যদি এটা ফলদায়ক হয়, তা হলে স্বাভাবিক ভাবেই আমি এটা চালিয়ে যাব।”
গত কয়েক দিনে আমরা কেন্দ্রের কাছে শুনেছি, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের চাহিদা পূরণ করার জন্য পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত রয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হওয়ার ফলে সিলিন্ডার বুকিংয়ের প্রবণতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে দেশে সিলিন্ডার বুকিংয়ের সংখ্যা প্রায় ৫৫ লক্ষ।
প্রতিদিন সরবরাহ হত প্রায় ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার। এই পরিস্থিতিতে সিলিন্ডার সরবরাহের হার একই থাকলেও বুকিংয়ের হার বৃদ্ধি পেয়ে যায়। এ অবস্থায় হরমুজ় পেরিয়ে ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দাদেবী’ ভারতে পৌঁছোনোয় দেশের এলপিজি-ভান্ডার আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।




















