ফের হামলা ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোনে! আরও বাড়ছে তেলের দাম

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ এমিরাতে মঙ্গলবার সকালে ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোন (Fujairah Oil Industry)-এ একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফুজাইরাহ সরকারি মিডিয়া অফিসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এয়ার ডিফেন্স ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
fujairah-oil-industry-zone-drone-incident-fire-uae

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ এমিরাতে মঙ্গলবার সকালে ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোন (Fujairah Oil Industry)-এ একটি বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফুজাইরাহ সরকারি মিডিয়া অফিসের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে একটি ড্রোনকে সফলভাবে আটকে দেওয়ার পর তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং এলাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।

তবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বিশ্বব্যাপী তেলের দামকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।ফুজাইরাহ অয়েল ইন্ডাস্ট্রি জোন মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল স্টোরেজ এবং বাঙ্কারিং হাবগুলোর একটি। এখানে বিশাল পরিমাণ ক্রুড অয়েল, রিফাইন্ড প্রোডাক্ট এবং জাহাজের জ্বালানি সংরক্ষিত থাকে। স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর জন্য এটি একটি কী পয়েন্ট।

   

আরও দেখুনঃ আমেরিকার চোখে ধুলো! ইজরায়েল-যুদ্ধের মাঝেই ইরানকে ‘গোপন’ অস্ত্র চিনের?

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এলাকায় কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ উঠছে, আগুনের লেলিহান শিখা তেলের ট্যাঙ্কের কাছে ছড়িয়ে পড়ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য দ্রুত ফায়ার সার্ভিস এবং জরুরি বাহিনী কাজ করেছে।এই ঘটনা ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়েছে।

এরপর থেকে ইরান গত কয়েকদিনে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ওমান এবং ইউএই ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ফুজাইরাহে এই ড্রোন আটকে দেওয়া হলেও তার ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লাগে। ইরান সরাসরি দায় স্বীকার না করলেও, এটি তাদের প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে কাতারের রাস লাফান এলএনজি প্ল্যান্ট, সৌদি আরামকোর রাস তানুরা রিফাইনারি, আবুধাবির ফুয়েল টার্মিনাল এবং অন্যান্য এনার্জি সাইটে হামলা হয়েছে, যা বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহকে বিঘ্নিত করেছে।

তেলের বাজারে এর প্রভাব তাৎক্ষণিক। ঘটনার পর ক্রুড অয়েলের দাম ৫% বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৮০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, কিছু ট্রেডারের মতে এটি আরও বাড়তে পারে। স্ট্রেইট অফ হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে, অনেক ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে যাচ্ছে। ফুজাইরাহ বাঙ্কারিং পোর্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ, এখানে জাহাজের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে সিঙ্গাপুর বা অন্যান্য পোর্টে চাহিদা বাড়বে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে ক্রুড অয়েল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ মূল্যের কাছাকাছি। এতে বিশ্ব অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, পরিবহন খরচ বাড়বে এবং অনেক দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.