আমেরিকার চোখে ধুলো! ইজরায়েল-যুদ্ধের মাঝেই ইরানকে ‘গোপন’ অস্ত্র চিনের?

নয়াদিল্লি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সংঘাতে বিধ্বস্ত ইরানের বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কি গোপনে সাহায্য করছে চিন? বেজিং সরাসরি অস্ত্র বিক্রির কথা অস্বীকার করলেও, ‘নিউজ ১৮’-এর ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
China Iran Missile Defense Support

নয়াদিল্লি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সংঘাতে বিধ্বস্ত ইরানের বায়ু ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে কি গোপনে সাহায্য করছে চিন? বেজিং সরাসরি অস্ত্র বিক্রির কথা অস্বীকার করলেও, ‘নিউজ ১৮’-এর হাতে আসা একটি এক্সক্লুসিভ গোয়েন্দা রিপোর্টে তেমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে চিন সরাসরি বড় আকারের অস্ত্র সরবরাহের বদলে মিসাইলের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ, উন্নত রাডার এবং প্রযুক্তি দিয়ে তেহরানকে সাহায্য করছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ‘১২ দিনের যুদ্ধ’-এর পর, ইরানের ফুরিয়ে আসা সামরিক ভাণ্ডার পূরণে এই গোপন আদানপ্রদান প্রবল গতি পেয়েছে।

   

কী কী চিনা প্রযুক্তি ইরানের হাতে যাচ্ছে? China Iran Missile Defense Support

CM-302 সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই ‘কেরিয়ার কিলার’ মিসাইলের চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে বলে জানা গিয়েছে। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন রণতরীর জন্য এটি বড়সড় হুমকি হতে পারে। এর রেঞ্জ ২৯০-৪৬০ কিলোমিটার।

HQ-9B এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম: চিনের এই অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (রাশিয়ার S-300 বা S-400-এর সমতুল্য) ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ও সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তায় মোতায়েন করা শুরু হয়েছে।

YLC-8B অ্যান্টি-স্টেলথ রাডার: মার্কিন F-35 বা B-2 বোমারু বিমানের মতো রাডার-ফাঁকি-দেওয়া (Stealth) যুদ্ধবিমান বহু দূর থেকে শনাক্ত করতে সক্ষম এই শক্তিশালী রাডার ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করছে।

ব্যালিস্টিক মিসাইলের জ্বালানি: গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১,০০০ টন ‘সোডিয়াম পারক্লোরেট’ ইরানে পাঠিয়েছে চিন। এই বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে ‘হাজ কাসেম’ বা ‘খাইবার শেকান’-এর মতো প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি নিখুঁত নিশানার ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরি করা সম্ভব।

সুইসাইড ড্রোন: নিখুঁত হামলায় সক্ষম চিনা প্রযুক্তির ‘লয়টারিং মিউনিশন’ বা আত্মঘাতী ড্রোনও ইরানের হাতে এসেছে, যা দিয়ে শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে হামলা চালানো যায়।

সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ না হলেও, চিনের এই কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত মদত মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণকে আগামী দিনে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।